• জয় নিশ্চিত হল, ২৯’শে বিজেপিকে দুরমুশ: মমতা
    বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু ও অর্ক দে, কলকাতা: প্রথম দফার ভোটে বিজেপির হামলার বিরুদ্ধে জবাব দিয়েছে বাংলা। ভোটদানের নয়া রেকর্ড গড়ে রাজ্যবাসী ভেস্তে দিয়েছে বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যাবতীয় চক্রান্ত। আর মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের এই উচ্ছ্বাসই প্রমাণ—তাঁর দলের জয় নিশ্চিত! বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকেই বাংলার অগ্নিকন্যা নজর রেখেছিলেন ভোট পরিস্থিতির উপর। বিকেল গড়াতে না গড়াতে বউবাজারের সভায় তাঁর প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘আমি যদি মানুষের মন বুঝি, তাহলে আজকে যা ভোট হয়েছে, তাতে ইতিমধ্যে আমরা জয়ের জায়গায় এসে গিয়েছি। তুমি (বিজেপি) ঘেঁচু কলা করবে! তৃণমূল হারতে পারে না। আজকে আমরা জিতে বসে আছি। এরপর ২৯শে দুরমুশ করব, দুরমুশ!’ 

    আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি কেন্দ্রে। ওই আসনগুলি কার্যত তৃণমূলের গড় হিসাবেই পরিচিত। ওইদিনও সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলনেত্রী। তাঁর সাফ কথা, বিজেপিকে ‘রাজনৈতিক ভাবে দুরমুশ’ করে দেওয়া হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ভোটদানের হার ছিল ৮২.৩০ শতাংশ। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তা একটু কমে হয় ৭৯.৫৯ শতাংশ। আর এবার প্রথম দফাতেই ৯১ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটদানের হার। এসআইআরের কারণে ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদের পরও রেকর্ড ভোট পড়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘মানুষ জানে যে এসআইআরের পর এনআরসি করবে বিজেপি। জমি-বাড়ি সব চলে যাবে। মানুষ আজ আতঙ্কিত। ভয়ে ভয়ে জীবনযাপন করছে। ফলে ভবিষ্যৎ এবং অধিকার রক্ষার জন্যই আজ তাঁরা বেশি মাত্রায় ভোট দিয়েছেন।’

    মানুষের রায়ের উপর ভরসা রেখে বিজেপিকে চলতি বছরেই দিল্লি থেকে উৎখাত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এদিন ঘোষণা করেছেন মমতা। তার আগে নিশানা করেছেন বাংলা দখলে গেরুয়া শিবির ও কমিশনের চক্রান্তকে। সুষ্ঠু ভোটের অজুহাতে আড়াই লক্ষ বাহিনী এবং সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা নিয়ে ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, ‘গ্রাম বাংলায় এখন হরিনাম এবং আজান কোনোটাই শোনা যাচ্ছে না। শুধুই বাহিনীর বুটের গট গট শব্দ। যেন যুদ্ধ। হল্লা বাহিনী এসেছে বাংলা দখল করতে।’ বাংলা বিরোধী এমন কার্যকলাপের ‘রাজনৈতিক বদলা’ নিতেই ২০২৬’এর মধ্যেই কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে গদিচ্যুত করার অঙ্গীকার করেছেন মমতা। জানিয়েছেন, একমাত্র লক্ষ্য বিজেপির পতন। চলতি বছরের আগস্টেই দেশ নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে। 

    নরেন্দ্র মোদি হাওড়ায় থাকাকালীনই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘ঝালমুড়ি’ প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, ‘বুথে বসার এজেন্ট নেই বলে উনি পুলিশকে চমকাতে আসছেন। ভোটের পরে তো আপনাদের আর পাত্তা পাওয়া যাবে না। তখন আপনাকে দিল্লিতে ভেলপুরি পাঠাব।’ 

    বউবাজারের সভা ছাড়া এদিন ভবানীপুর কাঁসারীপাড়া শীতলামন্দির থেকে পটুয়াপাড়া ক্রসিং পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মমতা। পরে যাদবপুরে বক্তব্য রাখেন জনসভাতেও। প্রশাসনের রদবদলের জেরে নবান্ন তছনছ হয়ে যাচ্ছে বলেও সেখানে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানান, এই সময়কালে কোনো আর্থিক তছরুপ হলে তাঁর সরকার দায়ী থাকবে না। পাশাপাশি আশ্বাস, মোদি সরকারের পতন হলে ব্যবসায়ীদের উপর অযথা এজেন্সি হানা বন্ধ করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)