কান্তির স্টাইল, গলায় লাল গামছা ঝুলিয়ে দোকান থেকে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিপিএম প্রার্থী সাম্য
বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, রায়দিঘি: সকাল ৮.৩০। রায়দিঘি বাজারে জনাকয়েক সিপিএম কর্মী দোকানে মুড়ি-ঘুগনি খেতে ব্যাস্ত। এর মধ্যেই এক কর্মী সাইকেলে লাল পতাকা টাঙিয়ে চলে এলেন। সাইকেলের পিছনে ভাঙাচোরা এক সাউন্ড বক্স। তাতে গান হচ্ছে, রায়দিঘি দিচ্ছে ডাক এবার সাম্যকে চাই। ধীরে ধীরে অন্য কর্মীরা জড় হতে থাকলেন। রায়দিঘির বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী, তরুণ তুর্কি সাম্য গঙ্গোপাধ্যায়ও হাজির। সাদা জামা, জিন্স আর গলায় লাল গামছা। অনেকটাই বাবা প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের স্টাইল। তাঁরও গলা, কাঁধে থাকতো লাল গামছা। হেসে সাম্য বলেন, লাল ঝান্ডাকে আনার লড়াই। তাই লাল গামছা তো থাকবেই। পায়ে হেঁটেই রায়দিঘি বাজারে শুরু হয়ে গেল সাম্যর প্রচার।
রাস্তার পাশে দোকানগুলির একেবারে ভিতরে ঢুকে পড়ছেন বাম প্রার্থী। অন্য কর্মীরা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, কান্তিদার পুত্র আপনাদের কাছে। সেলুনে বসেছিলেন এক প্রবীণ। সাম্যকে দেখে এগিয়ে এসে কান্নাভেজা গলায় বললেন, কান্তিদা কেমন আছেন? অনেক কাজ করেছিলেন উনি। তোমাকে বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সাম্যর বিনয়ী উত্তর, কাজ করার জন্য ভোট দিন আমাকে। ভরসা রাখুন।
কথা বলা শেষ করে এগিয়ে চললেন বাম প্রার্থী। এক মহিলা এগিয়ে এসে বললেন, তুমি নিশ্চিন্ত থেকো বাবা। কান্তিদার জন্যই তোমাকে দেবো ভোট। সেকথা শুনে চওড়া হাসি সাম্যর। রাস্তায় যেতে যেতে টোটোচালক যুবককে জড়িয়ে ধরলেন সাম্য। বললেন, রায়দিঘি সেতু বাবা করেছেন। তবে এখন রাস্তা খারাপ কংকনদিঘির। মেরামত দরকার। সেই মেরামত করানোর জন্যই আমাকে ভোট দেওয়া চাই। প্রচার করতে করতেই আর একটি দোকানে ঢুকে পড়লেন সাম্য। সেখানে অনেকে বসেছিলেন। সবার হাত ধরে আশীর্বাদ চাইলেন তিনি। একজন প্রবীণ এগিয়ে এসে বললেন, জয়নগর রায়দিঘি রেলপথ খুব দরকার এখানে। সাম্য উত্তরে বললেন, একেবারে পাথরপ্রতিমা পর্যন্ত দরকার। এর জন্য আন্দোলন চলবে এবং আমাকে এবার সুযোগ দিতে হবে।
আবার এগনো। দু’ধারে দোকান। সব দোকানে ঢুকছেন প্রার্থী। একজন বললেন, কান্তিদা অনেক কাজ করেছেন রায়দিঘিতে। তুমি নির্বাচিত হলে পাশে থেকো। সাম্য তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বললেন, রায়দিঘি ১৫ বছর পিছিয়ে গিয়েছে। আমাদের মূল বিরোধী প্রার্থী রাজনীতি কোনোদিন করেননি। কোনোও সভায় দেখা যায়নি ওই দলের হয়ে বলতে। তিনিও প্রার্থী। আমি প্রার্থী বাবার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করা শিখে। বাবার অর্ধসমাপ্ত কাজ শেষ করাই আমার লক্ষ্য। আমার উপর ভরসা রাখুন।
প্রচারে মানুষের সঙ্গে একেবারে মিশে যাচ্ছেন তরুণ তুর্কি। প্রচারের মাঝে কেউ আবার এসে প্রার্থীর সঙ্গে ছবিও তুলছেন। একটি দোকানে কয়েকজন যুবকের জটলা। সেখানে ঢুকে তাঁদের কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন সাম্য। যুবকরা বললেন, দাদা তুমি ভোট পাবে। আমরা আছি পাশে। হাসি মুখে হাত নেড়ে সাম্য বললেন, কাজ করতে চাই পাশে থেকে। তাই এসেছি।
গোটা রায়দিঘি বাজার ঘোরা শেষ প্রার্থীর। গলদঘর্ম অবস্থা। সাড়ে এগারোটা বেজে গিয়েছে। সাম্য কর্মীদের বললেন, যাও বিশ্রাম নাও। বিকেলে আবার প্রচারে যাব। কর্মীরাও বললেন, যখনই ডাকবে, চলে আসবো। জেতাতে হবে তোমাকে। কান্তিদার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।