এই সময়, বহরমপুর: তাঁরা দু'জনে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ভোটগ্রহণের দিন দু'জনেরই পরনের শার্টে ছিল হলুদের ছোঁয়া। এক জনকে দেখা গেল কাঁচা হলুদ রংয়ের ফুল হাতা শার্টে, অন্য জনের পরনে হালকা হলুদ ও সাদা স্ট্রাইপের হাফ হাতা শার্ট। তাঁদের এক জন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী, অন্য জন তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়।
এ দিন সকাল সাড়ে ন'টা নাগাদ নিজের কাশিমবাজারের বাড়ি থেকে বের হন অধীর। সরাসরি জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে আসার কথা থাকলেও সকালের দিকে এক প্রস্ত বহরমপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। পরে দুপুরে কিছুক্ষণ জেলা কার্যালয়ে কাটিয়ে ফের বেরিয়ে যান। মণীন্দ্রনগর, হাতিনগর এলাকা ঘুরে কাশিমবাজার পুর প্রাথমিক অবৈতনিক বিদ্যালয় বুথে ভোট দিতে পৌঁছন। তার আগে পার্টি অফিসে ভাত ও পাতলা মাছের ঝোল দিয়ে দুপুরের আহার সারেন তিনি।
অন্য দিকে, নাড়ুও সকাল সাড়ে ন'টা নাগাদ বহরমপুরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দ্রপ্রস্থের বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি পৌঁছন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। ওয়ার্ডের নবরত্ন দয়ানগর ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে কান্তনগর এলাকার দু'টি বুথ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে চার নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে পৌঁছন খাগড়া পুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। সেখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘাট বন্দর।
গোরাবাজার পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি বুথের মধ্যে দুটো বুথের ইভিএম দীর্ঘক্ষণ বিকল হয়ে রয়েছে খবর পেয়ে ছোটেন সেখানে। বুথের ভিতরে ঢুকে প্রিসাইডিং অফিসারের পাশাপাশি সেক্টর অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তা সারানোর ব্যবস্থা করেন। দলবল নিয়ে গোটা বহরমপুর শহরের ২৮টি ওয়ার্ড ঘোরার ফাঁকেই দুপুরে মাছের ঝোল–ভাত দিয়ে লাঞ্চ সারেন।
এ দিন অধীর বলেন, 'বেশ কিছু বুথে ধীরে ভোট করানোর চেষ্টা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল শেষ বেলায় বুথ দখল করা। চার নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর বুথের কংগ্রেস এজেন্ট ও তাঁর বাবাকে মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে ভোট করাই।' জবাবে নাড়ু বলেন, 'অধীর চৌধুরীকে মিডিয়া ফুলিয়ে বড় করেছে। আর মিডিয়ার সামনে মিথ্যা বলতে ওস্তাদ তিনি। শান্তিতে ভোটপর্ব মিটেছে। মানুষ আনন্দে ভোট দিয়েছেন। তা তাঁর সহ্য হচ্ছে না।' তবে এ দিন সে ভাবে দেখা মেলেনি বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্রর!