• এলাকায় কাজ পাব কি? লাইনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন স্বপনদের
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: ট্রেনের জেনারেল কম্পার্টমেন্টে বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে গ্রামে ফিরে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হলেন তাঁরা। রিজ়ার্ভেশন কনফার্ম না–হওয়ায় অনেকে এসেছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।

    বৃহস্পতিবার কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ২৪৪/১৪৩ রামবনি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুথের লাইনে দাঁড়ানো পরিযায়ী শ্রমিকের দলের বক্তব্য, ‘গাঁটের কড়ি খরচ করে অনেক কষ্টে করে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলাম। আমরা কেউ ১০-১২ বছর, কেউ আরও বেশি সময় পরিবার ছেড়ে ভিন রাজ্যে পড়ে রয়েছি। এলাকায় আমাদের কাজ চাই।’

    রামবনি গ্রামের বাসিন্দা বানেশ্বর বাউড়ি থাকেন তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলায়। বললেন, ‘১৬ বছর বাড়ি থেকে দূরে রয়েছি। গ্রামে তো কাজ নেই, খাব কী?’ বিশ্বরূপ বাউড়ি, স্বপন বাউড়ি, ভৈরব বাউড়িরাও বলছেন, ‘এ বার গ্রামের অনেকেই বলেছিলেন ভোট দিতে আসতে হবে। অনেক কষ্টে নিজেদের খরচে এসেছি।’ স্বপন বলে উঠলেন, ‘টিকিট কনফার্ম হয়নি। জেনারেল কম্পার্টমেন্টের শৌচালয়ের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছি। ভিড়ের কারণে খেতেও পারিনি। গতকাল ফিরেছি, আজ ভোট দিতে এলাম।’ রবিন সিং সর্দার, সমীর বাউড়ি বললেন, ‘এত কষ্ট সয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হলাম। আমাদের কথা কী সরকার ভাববে!’

    লাইনে দাঁড়ানো রীতা গোপ বললেন, ‘স্বামী বিজয় গোপ দীর্ঘদিন কর্মসূত্রে গুজরাটে থাকেন। ছেলের যখন তিন বছর বয়সে, তখন উনি ঘর ছেড়েছিলেন। ছেলের বয়স এখন ১৮ বছর। আজও এলাকায় কাজ নেই। আমরা চাই এলাকায় ওদের কাজের ব্যবস্থা হোক।’

    তা হলে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি কি শুধুই কথার কথা?

    ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের দল বলে গেলেন, ‘ভোট–উৎসবে অংশ নিলাম ঠিকই কিন্তু আমাদের খেটেই পেটের ভাতের জোগাড় করতে হবে। এটাই ভবিতব্য। যারা সরকারে আসুক, তাদের কাছে দাবি, এলাকায় কাজ চাই।’

  • Link to this news (এই সময়)