• বুথ সংলগ্ন এলাকায় না খাওয়ার নির্দেশ, ভোজ-নীতিতে শোরগোল রাজনীতিতে
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: নিয়ম ছিল বরাবরই। আবার রীতিও চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ভোটের দিন খাওয়াদাওয়া নিয়ে কমিশনের বিধিনিষেধ এবং বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে খাওয়ার রীতি–রেওয়াজের সহাবস্থান নতুন কিছু নয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হলো না। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর এই খাওয়াদাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক শোরগোল তুলনায় বেশি হলো বলে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পরে মনে করছেন অনেকেই।

    নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, বুথ সংলগ্ন এলাকায় কোনও ভাবেই ভোটারদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা যাবে না। ভোটারদের প্রলোভন দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা ছিল কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছবি বলছে, কোথাও রীতি বা ঐতিহ্যের যুক্তিতে, কোথাও রাজনৈতিক পতাকা সরিয়ে চুটিয়ে চলেছে খাওয়াদাওয়া। মেনুতে কোথাও ছিল অতি সাধারণ মুড়ি-ছোলা, কোথাও আবার একেবারে মাছ-মাংসের এলাহি আয়োজন, কোথাও বা বিরিয়ানি।

    পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে অবশ্য দেখা গেল সম্প্রীতির ছবি। দলদলি পঞ্চায়েতের পালগাঁ এমএসকে বুথের ঠিক পাশেই বিজেপি, সিপিএম ও তৃণমূলের ক্যাম্প ছিল একই সারিতে। এক শিবিরের চায়ে অন্য শিবিরের কর্মীরা চুমুক দিয়েছেন। তিন শিবিরেই বড় হাঁড়িতে রাখা ছিল ভেজানো ছোলা। কাঠফাটা রোদে সেই ছোলা খেতে খেতে এক ভোটারের প্রতিক্রিয়া, 'ভোটের দিন ছোলাভেজা এখানকার ভোট–সংস্কৃতিরই অঙ্গ।'

    ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি বা বিনপুর বিধানসভার ছবি আরও বৈচিত্র্যময়। বিনপুরের কোদপুরায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে আর বালিচুয়ায় বিজেপির ক্যাম্পে সকাল থেকেই মুড়ি, ছোলা সেদ্ধ আর চানাচুরের প্যাকেট বিলি করা হয়। বিজেপি বুথ সভাপতি নব পাত্র সাফ জানিয়ে দেন, যে কোনও ভোটে এটা তাঁদের এলাকার রেওয়াজ। ঝাড়গ্রামের শিরশি বুথে প্রথমবার ভোট দিতে আসা এক তরুণের হাতে তৃণমূলের ক্যাম্প থেকে তুলে দেওয়া হয় লাড্ডু। আবার গোপীবল্লভপুরের তৃণমূল বুথ ক্যাম্পে ভোটারদের জন্য সাজানো ছিল পানের স্টল।

    খাবার নিয়ে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নজরে এসেছে উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি ও নাগরাকাটা এলাকায়। ময়নাগুড়ির কালামাটি এবং নাগরাকাটার বিছাভাঙা বনবস্তিতে চলল পেটপুরে খাওয়ানোর পর্ব। বুথ থেকে কিছুটা দূরে কোনও কর্মীর বাড়ির ভিতরে বা আড়ালে হয়েছিল রান্নার বিশাল আসর। কোথাও ছিল মাছের ঝোল, তো কোথাও কষা মাংস। ভোটাররা ভোট দিয়ে ফেরার পথে দল বেঁধে সেই সব বাড়িতে গিয়ে ভোজ সারলেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোট শেষে বনবস্তিবাসীদের খাওয়ানোর এই রীতি বহু পুরোনো।

    তবে মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় যাদবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অদূরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পলিথিনে ভরে মুড়ি, চপ আর লঙ্কা দেওয়া ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, ভোটারদের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট টানতেই এই কৌশল নিয়েছে শাসকদল। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে একে নেহাতই সৌজন্য বলে দাবি করা হয়েছে। বিনপুরের কাঁকড়াঝোড় এলাকায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটারদের মাংস-খিচুড়ি খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় শিলিগুড়িতে। সেখানে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের কাছেই একটি আবাসনের নীচে বড় বড় হাঁড়ি ও একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে রীতিমতো অনুষ্ঠান বাড়ির মতো রান্নার আয়োজন চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে হানা দেয়। পুলিশ সেখান থেকে রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার করে এবং পাঁচ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগের তির ছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে।

  • Link to this news (এই সময়)