তপন মণ্ডল ■ হিঙ্গলগঞ্জ
ভোট এলে এলাকার বাসিন্দারা 'উপরি' হিসেবে পান পানীয় জল, তা–ও মাসখানেক। অভিযোগ, ভোট শেষ হলে ফিরে আসে পরিস্রুত পানীয় জলের সঙ্কট। যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেন না। তখন গাঁটের কড়ি খরচ করে জল কিনতে হয় বাসিন্দাদের। যাঁদের সে সাধ্য নেই, তাঁরা দূর থেকে কলসি, বালতি বা বড় ড্রামে পানীয় জল নিয়ে আসেন বাড়িতে। হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বড় অংশের এই অবস্থা বলে দাবি এলাকাবাসীর।
মঙ্গলবার সকালে হিঙ্গলগঞ্জের পথে দেখা গেল, রাস্তার পাশে চড়া রোদ মাথায় কলসি, বালতি হাতে অপেক্ষা করছেন এলাকার একদল মহিলা। কীসের লাইন? প্রশ্নে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মহিলাদের জবাব, 'আমাদের দুঃখের কথা শুনে লাভ নেই। এখন ভোট এসেছে, তাই নেতারা জলের জোগান দিচ্ছেন। ভোটের আগে এক মাস জল পাব। তা–ও কোনওদিন সকাল সাতটায়, কোনওদিন দশটার পরে জল আসে। আমরা সকাল থেকে এসে তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়ে আছি।' সঙ্গে জুড়ে দেন, 'ভোট মিটে গেলে পানীয় জলের সমস্যার কথা শোনার সময়ই পান না নেতারা।' এলাকাবাসীর দাবি, বারবার বলা সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না করার আঁচ এ বারের ভোটে টের পাবে শাসকদল। তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, গরমে প্রতি বছরই জলের বন্দোবস্ত করা হয়।
হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কাটাখাল, কেওড়াখালি, লেবুখালি, সাহেবখালি ইত্যাদি এলাকায় পরিস্রুত জলের সমস্যা বহু পুরোনো। কোথাও ডিপ টিউবওয়েল থাকলেও পর্যাপ্ত জল মেলেনা। কোথাও ডিপ টিউবওয়েল বসানোই যায়নি। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ভরসা বলতে অনেকটা দূরে বসানো কোনও টিউবওয়েল। সেখান থেকে জল আনতে সময় তো ব্যয় হয়ই, পাশাপাশি যাতায়াতে কিছু খরচও হয়।
এ প্রসঙ্গে কাটাখালির বাসিন্দা সাজিদা গাজি বলেন, 'এক কলসি জলের জন্য প্রতিদিন রাস্তার উপরে বসে থাকি। এখন ভোটের সময় বলে সরকার মাস খানেক পানীয় জল দেবে। অন্য সময়ে আমাদের কী দুর্গতি হয়, তা জানতে এগিয়ে আসেন না কেউ।' লেবুখালির বাসিন্দা সরস্বতী মণ্ডলের কথায়, 'এখানে জলের খুব কষ্ট। বাড়ি বাড়ি কল লাগিয়েও দু'বছর হলো জল সরবরাহ শুরু করেনি পঞ্চায়েত।' এ নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তুষার মণ্ডল বলেন, 'এলাকার মানুষ ঠিক কথা বলছেন না। ভোট বলে নয়, ফি গরমেই জলের স্তর নেমে যাওয়ায় সব ডিপ টিউবওয়েল থেকে পর্যাপ্ত জল মেলে না। যেখানে এই সমস্যা হয় না, সেখান থেকে ড্রামে ভরে জল পৌঁছে দেওয়া হয় সমস্যাদীর্ণ এলাকাগুলিতে। প্রতি গরমেই তিন মাস এ ভাবে জলের জোগান দেওয়া হয়।'