• ‘SIR’-এর ধাক্কায় নাম বাদে কোথাও অরন্ধন, কোথাও প্রতিবাদ চোখের জলে
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি, সামশেরগঞ্জ ও মালদা: ভোটের দিনেই গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে রাস্তায় নামলেন বহু ভোটার। বিশেষ নিবিড় সংশোধন ('সার')-এর জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার কোথাও অরন্ধন, কোথাও কালো কাপড় বেঁধে 'কালা দিবস', আবার কোথাও চোখের জলে ভেঙে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়ল। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থেকে মালদার সুজাপুর কিংবা শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি— সব জায়গাতেই একই সুর, 'বৈধ ভোটার হয়েও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলাম না।'

    সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিলামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মহালদার পাড়া ও কবিরাজপুরে ভোটের দিন কার্যত শোকের আবহ। মহালদার পাড়ার ৩ নম্বর বুথে ৯৯৩ জন ভোটারের মধ্যে 'সার'-এর ফলে বাদ পড়েছেন ৪২৭ জন। পাশের কবিরাজপুরের ৪ নম্বর বুথে ৯৫০ জনের মধ্যে ৩২০ জনের নাম কাটা গিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসবে সামিল হতে না পারার বঞ্চনা দিনভর এ দিন তাঁদের কুরে কুরে খেয়েছে।

    ৬৫ বছরের মহম্মদ সানাউল ইসলাম বলেন, 'কী কারণে আমার গোটা পরিবারের ১৩ জন সদস্যের নামই বাদ দিয়ে দেওয়া হলো, বুঝতে পারলাম না!' একই সুর ফাতেমা খাতুন ও আসমা বিবির কথায়। তাঁদের বক্তব্য, 'আমাদের নাম নেই। বাড়িতে সকলেই অবসন্ন। আজ রান্নাবান্নাও হয়নি।'

    এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। কংগ্রেস সদস্য মহিবুল মহালদারের নিজের নাম তালিকায় না থাকায় প্রশ্ন, 'আমি যদি বৈধ না হই, তবে আগের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলাম কী ভাবে?' তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের অভিযোগ, 'বিজেপির নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে।' কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল হান্নানও একই দাবি করেন। যদিও বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ রজক বলেন, 'নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনেই কাজ করেছে। ভোটসুষ্ঠু ভাবে হয়েছে।'

    '

    একই ছবি ধরা পড়েছে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডিগরি এলাকায়। ৬১ নম্বর বুথে 'সার' প্রক্রিয়ায় ৩০২ জন ভোটারের নাম বাদ যায়। ভোটের দিন ডিগরি প্রাথমিক স্কুল কেন্দ্রের সামনে বহু মানুষ আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলার মেহবুব আলম বলেন, 'আগে ভোটার ছিল ৮৬৩ জন, এখন ৫৬১। তার মধ্যে ভোট পড়েছে ৫৪৩ জনের। নথি থাকা সত্ত্বেওভোট দিতে না পেরে অনেকে কান্নাকাটিও করছেন।'

    অন্যদিকে, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির কামরাঙাগুড়িতেও প্রতিবাদের ছবি। কালো কাপড় বেঁধে 'কালা দিবস' পালন করেন বাসিন্দারা। ভোট চলাকালীন কেজিএন মার্কেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন শতাধিক মানুষ। ৭২ বছরের বসিরুদ্দিন মহম্মদ বলেন, 'পাঁচ দশক ধরে ভোট দিচ্ছি। পরিবারের সবার নাম আছে, শুধু আমারটাই বাদ!' শেখ হারুন জানান, পাসপোর্ট–সহ সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ গেল, বুঝতে পারছেন না তিনি!

    সালমা খাতুনের কথায়, 'স্বামী আনওয়ার হোসেনের নাম বাদ পড়ায় পরিবার উদ্বেগে।' হাসিবুল মহম্মদ বলেন, 'প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে থাকি, তবু ভোট দিতে পারলাম না।' ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৪ নম্বর বুথে 'সার' শুরুর আগে ভোটার ছিলেন ১,৩০৪। প্রথম তালিকায় বাদ ৭০ জন, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ১১২। পঞ্চায়েত সদস্য ইয়ানুল হক মুন্সী বলেন, 'এঁরা সবাই জীবিত ও শ্রমজীবী মানুষ। ফের দ্রুত নাম তোলাহোক তালিকায়।

  • Link to this news (এই সময়)