এই সময়: বুথে বুথে লম্বা লাইন। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় গড়ে ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে, যা কার্যত নজিরবিহীন।
ঠা–ঠা গরমে ঠিক কোন তাগিদে ভোটাররা জোট বাঁধলেন বুথে বুথে— এই প্রশ্নেরই উত্তর খেঁাজার চেষ্টা করছে যুযুধান দুই প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল ও বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। বেশি ভোট পড়েছে মানে সাধারণত ধরে নেওয়া হয়, সেখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া জোরদার। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া কার বিরুদ্ধে— কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, নাকি রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জল্পনা, তা নিয়েই।
প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়াকে বিজেপি চাইছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া হিসেবে প্রজেক্ট করতে। বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি বিজেপি পেতে চলেছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরাও বিপুল ভোটদানকে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বলে এ দিন দাবি করেছেন।
রাজ্য বিজেপির এক প্রবীণ নেতার কথায়, ‘বহু বছর ধরে ভোট দেখছি। ৯৩ শতাংশ ভোট কখনও পড়েছে বলে শুনিনি। মানুষ ঢেলে ভোট দিচ্ছে মানে বুঝতে হবে, শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোট পড়ছে। বিজেপি আসছে।’ তবে গেরুয়া শিবিরের এক তাত্ত্বিক নেতার ব্যাখ্যা, ‘নির্বাচনী বিশ্লেষণ বস্তুনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন। মাথায় রাখতে হবে নির্বাচনের মুখে বাংলায় সার হয়েছে। বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তা নিয়ে ভোটারদের একাংশের মধ্যে চাপা অসন্তোষও আছে। সেই ফ্যাক্টরটা মাথায় রাখতে হবে।’
ঠিক এই জায়গা থেকেই এ দিনের ভোটদানের হারকে ব্যাখ্যা করছে জোড়াফুল শিবির। তাদের যুক্তি, ‘সার’–এর উদ্বেগ ও আতঙ্কের বিরুদ্ধেই বিপুল সংখ্যায় মানুষ ভোট দিয়েছেন। এই ভোট আসলে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের আঁতাঁতের বিরুদ্ধে।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই বলেছেন, ‘মানুষ জানেন, এই লড়াই হচ্ছে অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূলকে ভোট না দিলে তাঁর আম যাবে, ছালাও যাবে।’ এ দিন রাত পর্যন্ত বিধানসভা ভিত্তিক পোল পার্সেন্টেজ অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (৯৩.০৫), ভগবানগোলা (৯৬.৯৫), ডোমকল (৯৬.৪৩), ফরাক্কা (৯৬.০৫), জঙ্গিপুর (৯৫.৭২), উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া (৯৬.০২), হেমতাবাদ (৯৬.৪০), মালদার হবিবপুর (৯৩.৯৬), বীরভূমের হাসন (৯৪.৯২), নানুরের (৯৩.৪৬) মতো কেন্দ্রগুলি, যেখানে সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর, সেখানে ভোটদানের হার রাজ্যের গড়ের তুলনায় বেশি। মালদার মোথাবাড়িতে যেখানে বিচারকদের আটকে বিক্ষোভ হয়েছিল, সেখানেও ৯৫.০৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটাররাই ‘সার’–এর জন্য সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে তাঁদের ভোট যে বিজেপির বিপক্ষেই যাচ্ছে, তা নিয়ে নিশ্চিত জোড়াফুল শিবির। কার ভোট কোন দিকে গেল, সেটা বোঝা যাবে ৪ মে।