এই সময়: দেশে জাল ওষুধ নিয়ে ফের উদ্বেগ ৈতরি হয়েছে। ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হওয়া বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনের একটি নির্দিষ্ট ব্যাচকে ঘিরে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তদন্ত শুরু করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজে়শন (সিডিএসসিও)।
বুপ্রেনরফিন ওষুধটি অস্ত্রোপচার-পরবর্তী মারাত্মক ব্যথায়, ক্যান্সারের প্রবল যন্ত্রণায়, ক্রনিক জটিল ব্যথা উপশমে ব্যবহার করা হয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনের ২ মিলিলিটার ভায়ালের ‘এলএম১৮৮৯’ ব্যাচটি প্রাথমিক ভাবে ‘স্পিউরিয়াস’ বা জাল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ব্যাচটির উৎপাদনের সময়কাল ২০২৩–এর ডিসেম্বর এবং মেয়াদ ফুরোবে ২০২৯–এর নভেম্বরে। এই ব্যাচের ওষুধের ব্যবহার আপাতত স্থগিত রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ভাবে।
চিকিৎসক মহলের মতে, বুপ্রেনরফিন একটি শক্তিশালী ওপিঅয়েড শ্রেণির ওষুধ, যা সাধারণত তীব্র থেকে মাঝারি ব্যথা নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়ে, ক্যান্সারজনিত ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী জটিল ব্যথায় ব্যবহার করা হয়। এক পাশাপাশি, আধুনিক চিকিৎসায় এই ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মাদকাসক্তি ছাড়ানোর ক্ষেত্রেও। ওপিঅয়েড–নির্ভরতা কমাতে ‘সাবস্টিটিউশন থেরাপি’-র অংশ হিসেবে বুপ্রেনরফিন ব্যবহৃত হয়, যা রোগীর শরীরে হঠাৎ ‘উইথড্রয়াল সিনড্রোম’ সংক্রান্ত উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হয়।
সিডিএসসিও-র রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এলএম১৮৮৯’ ব্যাচটির লেবেলে যে নির্মাতার নাম রয়েছে, সেই সংস্থাই দাবি করেছে, তারা ওই ব্যাচের ইনজেকশন আদৌ তৈরিই করেনি। স্বভাবতই এতে জোরদার হচ্ছে জালিয়াতির আশঙ্কাই। ওষুধ নিয়ন্ত্রক মহলের মতে, যদি কোনও ওষুধ অন্য কোনও সংস্থার নাম ব্যবহার করে বাজারে আনা হয় কিংবা আসল ওষুধের নকল হিসেবে তৈরি হয়, তা হলে তাকে গণ্য করা হয় ‘স্পিউরিয়াস ড্রাগ’ হিসেবে। এই সংক্রান্ত বিধান রয়েছে ১৯৪০–এর ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইনে।
সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে নানা ধরনের ওষুধের গুণমান নিয়েই উদ্বেগ ক্রমে বাড়ছে। প্রত্যেক মাসের গড়ের চেয়ে মার্চে সারা দেশে তুলনায় বেশি সংখ্যক ব্যাচের ওষুধের নমুনা ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ (এনএসকিউ) বলে চিহ্নিত হয়েছে এবং একটি নমুনা জাল বলেও সন্দেহ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এই বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনও।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু রোগীদের সুরক্ষার জন্যই বিপজ্জনক নয়, গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেয়। তাই, তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে। সিডিএসসিও ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সবিস্তার অনুসন্ধান শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।