দিল্লির IRS অফিসারের মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বাড়ির প্রাক্তন পরিচারক রাহুল মিনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু, এই ঘটনার পরেও অভিযুক্তের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই বলেই দাবি তদন্তকারীদের। তাঁরা জানান, জেরার সময়ে খুব শান্ত ছিল রাহুল। তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। পুলিশের জেরায় সে জানিয়েছে, ‘দিদি যদি টাকা দিত, তাহলে এমন ঘটত না’। সে আরও জানিয়েছে, ওই প্রাক্তন IRS-এর বাড়িতে যাওয়ার তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল টাকা হাতিয়ে নেওয়া। ওই তরুণীকে ধর্ষণ বা খুনের কোনও উদ্দেশ্য তার ছিল না।
পুলিশ জানায়, দিল্লির অমর কলোনিতে বুধবার সকালে খুন হন তরুণী। ধর্ষণ ও খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়ির পুরোনো পরিচারক রাহুল মিনাকে বুধবার রাতেই দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি OYO হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই তরুণী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী ছিলেন। তিনি UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অমর কলোনির একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার সকাল ৬টা ২৪ মিনিটে অভিযুক্ত হলুদ রংয়ের শার্ট পরে তরুণীদের আবাসনের দিকে যাচ্ছে। তার সূত্র ধরেই তল্লাশি শুরু করে দিল্লি পুলিশ। ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাহুল আবাসনের মেন গেট দিয়ে ঢুকছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। তরুণীদের বাড়িতে ঢুকছে সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে। তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে।
জেরায় রাহুল আরও জানিয়েছে ওই IRS অফিসারের বাড়িতে মাসে ২০,০০০ টাকা বেতন পেত। ওই বাড়িতে প্রায় ৮ মাস কাজ করেছিল রাহুল। কিন্তু, প্রায় দেড় মাস আগে আর্থিক তছরুপের কারণে তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, রাহুলের বাজারে বেশ কিছু টাকার ঋণ ছিল এবং সে অনলাইন গেমিংয়েও আসক্ত ছিল। সেই ঋণ মেটানোর জন্য টাকা জোগাড় করতেই ওই IRS অফিসারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সে।
রাহুল জানত যে, ওই বাড়িতে দরজা এবং লিফট ব্যবহারের জন্য আলাদা পাসকোড লাগে। বুধবার সকালে যখন মৃত তরুণীর বাবা-মা বাড়ি থেকে জিমের জন্য বেরিয়ে যান, তখন রাহুল বাড়িতে ঢোকে। সে জানায়, ‘আন্টি টাকা দেওয়ার জন্য ডেকেছেন।’ এরপরে বাড়িতে ঢুকে সে সোজা তরুণীর ঘরের বাইরে গিয়ে পৌঁছয়। সে সময়ে তরুণী ছাদের ঘরে বসে পড়াশোনা করছিলেন। রাহুল তাঁর ঘরে ঢুকে টাকা চায়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তরুণীকে একটি ধাতব জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তরুণী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে রাহুল।
এরপরে ওই তরুণীকে ছাদের সিড়ি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে তলায় নামিয়ে আনে রাহুল। তরুণীর রক্তমাখা আঙুল দিয়ে লকারের বায়োমেট্রিক লক খুলে টাকা হাতিয়ে নিতে চায় সে। কিন্তু বায়োমেট্রিক কাজ না করায় শেষমেশ সে একটি স্ক্রুড্রাইভার জোগাড় করে এনে লকটি ভেঙে ভেতর থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা এবং গয়না হাতিয়ে নেয় সে। এরপরে সেখানেই দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় রাহুল।
ঘটনার পরে পুলিশের ১৫টি দল দিল্লিতে তদন্ত চালিয়ে রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে ২২ এপ্রিল সকালে দিল্লিতে আসার আগের রাতে রাহুল আলওয়ারে তার এক প্রতিবেশীকেও ধর্ষণ করেছিল। সেই ঘটনারও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।