• হাতে মাত্র ১ হাজার টাকা! গরিবিই সম্বল অশোকের
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • মহম্মদ মহসিন, উলুবেড়িয়া

    আমতা-রানিহাটি রাজ্য সড়কের ১০ নম্বর জংশন থেকে ডানদিকে একটি ঢালাই রাস্তা চলে গিয়েছে। সেই রাস্তা ধরে মিনিট দশেক হেঁটে গেলেই ভান্ডারগাছা গ্রাম। সেই গ্রামেই তফসিলি সংরক্ষিত উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী অশোক দোলুইয়ের বাড়ি। বাড়ি বলতে মাটির দু'কামরা ঘর। টিনের ছাউনি। ছোট জানালা। ঘরে আলো-বাতাস ঘুব একটা ঢোকে না। সেখানেই বাস করেন অশোক এবং তাঁর স্ত্রী। তার পাশেই রয়েছে একটা ছোট্ট ইটের বাড়ি। মাথার উপরে ছাদ থাকলেও দেওয়ালে এখনও প্লাস্টার পড়েনি। ঘরের মেজেটাও মাটির। সেখানেই থকেন অশোক দোলুইয়ের ছেলে এবং বৌমা।

    পার্টির হোলটাইমার হিসেবে অশোক মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান। ছেলে ছোটখাটো কারখানায় কাজ করেন। দু'জনের রোজগারের টাকায় কোনও রকমে সংসারটা চলে যায়। স্ত্রী সাধনা দোলুই মহিলা সমিতির সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি ঘর সংসারও সামলাতে হয় তাঁকে।

    এলাকার মানুষের চোখে অশোক দোলুই একজন নিপাট ভদ্রলোক। কেউ আবার তাঁর নামের পাশে 'সাচ্চা কমিউনিস্ট' শব্দবন্ধটা জুড়ে দেন। তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন দেখে অবাক হন বিরোধীরাও। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, হাওড়া জেলার মধ্যে সবথেকে গরিব সময়ে কমিশনের কাছে তিনি যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, সেই তথ্য অনুযায়ী, তাঁর হাতে ১ হাজার টাকা নগদ রয়েছে। স্ত্রীর হাতে রয়েছে ৫০০ টাকা নগদ। নিজের নামে মোট ৩০ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। আর স্ত্রীর নামে মোট ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর নামে যে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে তার আনুমানিক মূল্য ৯ লক্ষ টাকা।

    ৫৬ বছর বয়সি অশোক দোলুই ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। বাবা ছিলেন এক বর্গাচাষি। অর্থাভাবে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। কিশোর বয়স থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি যোগ দেন সিপিএম পার্টিতে। প্রচারে বেরোনোর আগে ভাড়ারগাছার বাড়িতে বসে উলুবেড়িয়া উত্তরের সিপিএম প্রার্থী। তিনি বলেন, 'তেভাগা ও খাদ্য আন্দোলন আমার মনে খুবই দাগ কেটেছিল। তখন আমাদের এলাকার কৃষক নেতা ছিলেন মদন দাস ও দেবেন মল্লিক। তাঁদের নেতৃত্বে আমি খুবই অল্প বয়সে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। তারই মধ্যে আচমকা বাবার মৃত্যু হয়। সেই কারণে লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয়েছিল।' তাঁর কথায়, 'বাড়িতে অভাব থাকলেও পার্টি ও সমাজসেবার কাজ চালিয়ে গিয়েছি। করোনার সময় বাড়ির লোকজনের আপত্তি সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।'

    এক সময় তিনি হাওড়া জেলা শ্রমজীবী ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে আমতা ব্লক কৃষক সমিতির সম্পাদক পদে রয়েছেন। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রথমবার উলুবেড়িয়া তাতে তিনি তৃতীয় হন। তাঁকেই আবার এই কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে সিপিএম। লড়াই কঠিন হলেও এখনই দমছেন না অশোক দোলুই। দৃঢ়কণ্ঠে জানালেন, 'বিজেপি ও তৃণমূল উভয়েই মেরুকরণের রাজনীতি করছে। এর বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে যাব। বিজেপি ও তৃণমূল শুধু মেরুকরণের রাজনীতি করছে। অথচ, কৃষকরা তাঁদের ফসলের দাম পাচ্ছেন না। শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। তা নিয়ে বিজেপি কিংবা তৃণমূল নেতারা কোনও কথা বলছেন না।' গতবার যেখানে তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন, তাঁর এ বারের লড়াইটা কি নিছকই প্রতীকী? অশোকের জবাব, 'প্রচারে বেরিয়ে দেখছি, সাধারণ মানুষ বলছেন, বাম আমলই ভালো ছিল। ভোটের অঙ্ক যাই হোক না কেন, আমি তো নিজের জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী।'

  • Link to this news (এই সময়)