• ফুটবলের মায়া কাটিয়ে ভোটের ময়দানে সুবীর
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রদীপ চক্রবর্তী, চুঁচুড়া

    ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল, ফুটবলার হওয়ার। এক সময়ে চুটিয়ে ফুটবল খেলেছেন। চুঁচুড়ার একটি নামকরা ফুটবল ক্লাবের কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু ফুটবলের মায়া কাটিয়ে আপাতত তিনি লড়তে নেমেছেন ভোটের ময়দানে।

    ভরদুপুরে চুঁচুড়া পেয়ারাবাগানে নিজের বাড়িতে বসে তাঁর ফুটবল প্রেমের কথা বলতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়লেন চুঁচুড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ। শৈশবের স্মৃতি আউড়ে তিনি বললেন, 'ছোটবেলায় আমরা সাদা কালো টিভিতে মন দিয়ে রামায়ণ, মহাভারত দেখতাম। আর বিকেল হলেই বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে যেতাম। বলতে পারেন, সেই সময়ে ফুটবলের প্রেমে মজেছিলাম। স্কুল থেকে ফিরেই বইয়ের ব্যাগটা বাড়িতে রেখেই, খেলার মাঠে ছুটতাম। চন্দননগর খলিসানি কলেজে পড়ার সময় চুঁচুড়ায় লিগ ফুটবলে নিয়মিত খেলতাম।

    আমার খেলা দেখে ক্লাবের কর্মকর্তা এবং দর্শকরা বহুবার পিঠ চাপড়েছেন। তখন নিজেকে ফুটবল মাঠের হিরো মনে হতো। পরবর্তী সময়ে বেলুড় শিল্প মন্দিরে ভর্তি হওয়ার পরে ফুটবল মাঠের সঙ্গে আমার দূরত্ব বেড়ে যায়। ফুটবলের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে যায়।' সুবীর জানাচ্ছেন, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কলেজ থেকেই রাজনীতিতে প্রথম হাতেখড়ি হয়।

    পরবর্তীকালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী তপন শিকদারের সান্নিধ্যে আসেন। তারপরই তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে যায়। চুঁচুড়া শহরে 'ভারতমাতা সেবা সমিতি' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারই মাধ্যমে এলাকায় রক্তদান শিবির করতেন। কখনও চিকিৎসকদের ডেকে এনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করাতেন। মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য নানা ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। কলেজের পড়াশোনা শেষ করে টাকা রোজগারের জন্য তিনি একটি টেলিফোন বুথ খুলেছিলেন। দোকান খোলা রেখেই রোগী নিয়ে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে, কখনও আবার কলকাতার কোনও হাসপাতালে ছুটে যেতেন।

    ২০০০ সাল থেকে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেন সুবীর। তার অনেক আগেই অবশ্য সঙ্ঘ পরিবারের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত হুগলি জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি ছিলেন সুবীর নাগ। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৭৫ হাজার ভোটে জয়ী হন। তাঁর জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন সুবীর। ওই ভোটে লকেটের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভরাডুবির পরে দলের অনেকেই জার্সি বদল করলেও, সুবীর কোনও দিন শিবির বদলাননি। মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে সুবীরকে চুঁচুড়া কেন্দ্রের মতো আসনে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

    রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও খেলার মাঠ ভুলতে পারেননি। এখনও পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। চুঁচুড়া খেলার মাঠের পাশেই গাছতলায় নিয়মিত আড্ডা দেন। সুবীর বলেন, 'প্রথম বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছি, তাও চুঁচুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে। চুঁচুড়া আমার ঘরের মাঠ। এটা আমার বাড়তি সুবিধা বলতে পারেন। নিষ্ঠার সঙ্গে দল করেছি। মানুষের পাশে থেকেছি। মাঠ ছেড়ে যাইনি। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী।'

  • Link to this news (এই সময়)