• প্রার্থীদের সঙ্গে ছুটছেন স্ট্রাইকার মিঠু
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়

    তাঁর পায়ে একটা সময়ে কেঁপেছে ময়দান। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-মহামেডান, যে বড় ক্লাবেই খেলেছেন, তিনি ছিলেন অন্যতম তারকা। সেই সঙ্গে বাংলা হয়ে দেশ- দীপেন্দু বিশ্বাস বরাবরাই 'নায়ক'। সে ডার্বি হোক বা ভোটের ময়দান।

    এ বারের ভোটেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বসিরহাট দক্ষিণে দীপেন্দু এ বার তৃণমূলের প্রার্থী নন। কিন্তু প্রার্থী সুরজিৎ মিত্রর অন্যতম ভরসা তিনিই। সুরজিৎ এলাকায় পরিচিত বাদল নামে। দীপেন্দুর কাছেও তাই। বসিরহাট থেকে বলছিলেন, 'বাদলদার সঙ্গে আমার বহুদিনের পরিচয়। আমি যখন খেলতাম, তখন বাদলদা আমার খেলা যেমন দেখেছেন, তেমনই নিজেও ফুটবল ভালোবাসেন। ফলে আমার সঙ্গে খুবই ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে।' শুধু এক অঞ্চলেই নন। বসিরহাটের অন্যান্য বিধানসভাতেও ছুটে বেড়াতে হচ্ছে দীপেন্দুকে। তার কারণ, তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। একই সঙ্গে বসিরহাটের অন্যতম তারকাও।

    দীপেন্দুকে আদর্শ করে বসিরহাট থেকে উঠে এসেছেন বহু ফুটবলার। তাই সব অঞ্চলেই দীপেন্দুকে প্রচারের চাইছেন এলাকার বাসিন্দারা। দীপেন্দুর কথায়, 'হিন্দলগঞ্জ, বাদুড়িয়া, সন্দেশখালিতেও প্রচারে যাচ্ছি। আমরা দিদির সৈনিক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সেনাপতি। আমাদের জেলার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম অর্থাৎ লিটনদার ডাকেও নানা জায়গায় যেতে হচ্ছে।'

    ২০১৬-তে বসিরহাট দক্ষিণ থেকেই প্রায় ২৫ হাজার ভোটে জিতেছিলেন দীপেন্দু। ২০২১-এ এখান থেকে প্রায় একই ভোটে জেতেন জোড়াফুলের সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাবরই এই অঞ্চলে তৃণমূলের দাপট রয়েছে। এ বার সার-এর প্রভাবেও তফাত হবে না বলে মনে করছেন দীপেন্দু। তিনি বলেন, 'আমাদের এখানে হিন্দু-মুসলিম নিয়ে কোনও বিভেদ নেই। অনেক চেষ্টা করেও কিছু করা যায়নি। মানুষ সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে ভোট দেবে না। বাদলদা আমাদের এলাকার লোক। অনেক ভোটে জিতবেন।'

    যখন খেলতেন, ডার্বির আগে প্রত্যয়ী থাকতেন দীপেন্দু। চেষ্টা করতেন, যাতে তাঁর গোলে টিম জেতে। এ বারও টিমের প্রার্থীদের জেতাতে জালে বল জড়াতে তৈরি বসিরহাটের মিঠু-দীপেন্দু বিশ্বাস। হেসে বলছেন, 'নামী ডিফেন্ডাররা আমাকে আটকাতে পারেনি। বিজেপিও পারবে না।' ম্যাচের রেজাল্ট কী হলো, দীপেন্দু ক'টা গোল করলেন, অপেক্ষা ৪ মে-র দুপুর পর্যন্ত।

  • Link to this news (এই সময়)