এই সময়: বৃহস্পতিবার বিকেলে মথুরাপুর ও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার প্রত্যেক বিধানসভার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে কাকদ্বীপে এসে গঙ্গাসাগরের আবেগে শান দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ দিন কাকদ্বীপ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী সভা শুরু করেন জয় মা গঙ্গা, জয় কপিলমুনি বলে। তাঁর বক্তব্যের অধিকাংশই ছিল তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতা ও স্থানীয় সমস্যা ঘিরে।
তবে এ দিন সভাস্থলে মাইক এবং সাউন্ড বক্সের আওয়াজ পরিষ্কার না থাকায় মোদীর বক্তব্য চলাকালীন বিশৃঙ্খলা বেধে যায় সভাস্থলে। চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন দলের কর্মী সমর্থকদের একাংশ। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় বক্তব্য থামিয়ে দর্শকদের শান্ত হতে বলেন মোদী। ততক্ষণে দর্শক আসনে পুরুষ এবং মহিলাদের আলাদা বসার ব্যবস্থা না থাকায় আচমকা দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সভাস্থলে উপস্থিত পুলিশ তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু ওই হট্টগোলের জেরে মাত্র ২৫ মিনিট বক্তব্য রেখেই মঞ্চ ছাড়েন মোদী।
তবে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাকদ্বীপের বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা। তিনি বলেন, 'তিনটে হ্যাঙারের নীচে ঠাসাঠাসি ভিড় হয়েছিল মানুষের। সকলেই প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখার জন্য মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসতে চাইছিলেন। সেই জন্য প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা থামিয়ে সকলকে শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসতে বলেন।
সাউন্ডের কোনও সমস্যা হয়নি। তবুও কেন এ রকম হয়েছিল তা আমরা খতিয়ে দেখব।' এ দিন মোদী বলেন, 'গঙ্গাসাগরে প্রতি বছর গোটা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ পুণ্য করতে আসেন। তৃণমূল প্রতি বছর ভোটের আগেই বলে সেতু তৈরি করবে। কিন্তু সেই সেতু তৈরি আর হয় না। কেন্দ্র সরকার টাকা পাঠায় কিন্তু তৃণমূল সেই টাকা খেয়ে নেয়। এ রাজ্যে বিজেপিকে আনলেই সিএম ও পিএম একই দলের হলে উন্নয়নের কাজে সুবিধা হবে।'
মথুরাপুরে ভাঙা মেলা বিখ্যাত। সেখানে ভাঙা এবং পুরোনো জিনিসপত্র নিয়ে কারবারিরা মেলায় দোকান দেন। সেই মেলার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, 'মথুরাপুরের লোকজন ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে মুক্তো বানাচ্ছে। বিজেপি এলে এই মেলাকে স্বচ্ছ ভারত মিশনের গৌরব বানাবে। কারিগরদের ডিজিটাল স্কিল দেবে। মেলার জায়গায় মার্কেট হাব বানানো হবে।'
কাকদ্বীপে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়েও কড়া বার্তা দেন মোদী। তিনি বলেন, 'কাকদ্বীপে অনেক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এসেছে। এরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাজে ভাগ বসাচ্ছে। মানুষের কাছে জানতে চাইছি, এটা কি আপনারা চেয়েছিলেন?' বক্তব্যের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিক নিজেদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলেছে। যখন এখানে কারুর অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তখন সাধারণ মানুষজন আওয়াজ তুলেছে। বাংলার মানুষের ভয় দেখানো যায় না। বাংলা ভারতকে পথ দেখায়।'
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে কাকদ্বীপের তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা বলেন, '২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিযায়ী পাখির মত নরেন্দ্র মোদী এসে এই মাঠে সভা করে অনেক বড় বড় কথা বলে গিয়েছিলেন। অনেক কিছু আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু একটাও প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি। মানুষ সেটা জেনে গেছে বলেই গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষদের নিয়ে এসে কাকদ্বীপের সভা করতে হচ্ছে ওঁকে।'