• ৮০-তে এসে ভোটের হাসি নেই হারুনের, 'SIR' প্রক্রিয়ায় নাম বাদ গিয়েছে
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, লাভপুর: তাঁর বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। কমিশনের নিয়মানুযায়ী বাড়িতে বসেও ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবুও এ বার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না ৮০ বছরের হারুন অল রসিদ। 'সার' প্রক্রিয়ায় নাম বাদ গিয়েছে তাঁর।

    প্রান্তিক চাষি হারুনের বাড়ি বীরভূমের লাভপুরের কুসুমগড়িয়া গ্রামে। তিন মেয়ে বিবাহিত। স্ত্রী হাদিসা বিবিকে নিয়ে একাই থাকেন। ভোটার হওয়ার পরে পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা-প্রতিটি ভোটেই অংশ নিয়েছেন। এমনকী, এক বার মেয়ের বিয়ের দিন পঞ্চায়েত ভোটের দিন পড়েছিল। সে দিনও বিয়ের ঝক্কি সামলে এক ফাঁকে ভোট দিয়েছেন।

    তাঁর কাছে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ২০০৬-এর ভোটার কার্ডও রয়েছে। সেই কার্ড দেখিয়ে ২০২৪-এ লোকসভা ভোটেও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এ বার সার-এ বৃদ্ধ এবং মেজ মেয়ে রূপসানার নাম বাদ গিয়েছে। স্ত্রী হাদিসা বলেন, 'স্বামী অসুস্থ। তাও ওঁকে শুনানিতে নিয়ে গিয়েছিলাম বিডিও অফিসে। প্রয়োজনীয় নথি জমাও করি। তা সত্ত্বেও স্বামী আর মেজ মেয়ের নাম বাদ পড়ল।'

    বৃদ্ধের আক্ষেপ, 'প্রত্যেক বার ভোট দিয়েছি। ভেবেছিলাম স্ত্রীর সঙ্গে গিয়ে যাব ভেবেছিলাম। পারলাম না।' সংযোজন, 'শুনছি যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম নেই, তাঁদের নাকি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে বা কোথাও আটকে রাখা হবে। এই বয়সে তো মরেই যাব।'

    তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বলেন, 'আতঙ্কে ভুগছেন লাভপুর বিধানসভা এলাকার প্রায় ২০০০ বৈধ ভোটার। অধিকাংশ আমাদের সমর্থক।' বিজেপির সাংগঠনিক জেলা (বোলপুর) সহ-সভাপতি ও লাভপুরের প্রার্থী দেবাশিস ওঝা বলেন, 'কমিশন নিয়ম মেনেই ওই ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। পক্ষপাতিত্বের বিষয় নেই।'

  • Link to this news (এই সময়)