আইনি সুরক্ষা না পেয়ে আরও বিপাকে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভূঁইয়া শর্মার দায়ের করা মানহানির FIR-এর মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা। শুক্রবার পবন খেরার আগাম জামিনের (anticipatory bail) আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। যার ফলে আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, আপাতত গ্রেপ্তারি এড়ানোর জন্য কোনও আইনি সুরক্ষা নেই পবনের। এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় যখন খেরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্ত্রী রিণিকি ভূঁইয়া শর্মার একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট ও বিদেশে সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, রিণিকির সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া-বারবুডার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট রয়েছে, যা ভারতীয় আইনে বেআইনি। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেন রিণিকি ভূঁইয়া শর্মা এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
এরপরে রিণিকি ভূঁইয়া শর্মা কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বিরুদ্ধে মানহানি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতেই কংগ্রেস নেতা গ্রেপ্তারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। আদালতে তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি, যিনি দাবি করেন, মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে এবং খেরার পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার না করেও তদন্ত চালানো সম্ভব।
অন্যদিকে, অসম সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে এটি শুধু মানহানির মামলা নয়, বরং এতে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আগাম জামিন দেওয়া হলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত খেরার আবেদন খারিজ করে দেয়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেস নেতাকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করে এবং তাঁকে উপযুক্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে বলে। যদিও তিনি কিছু দিনের জন্য ট্রানজিট জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু, তা পরে কার্যকর থাকেনি।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই রায়ের ফলে পবন খেরার সামনে এখন সংকীর্ণ ও সীমিত আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন অথবা উচ্চতর আদালতে নতুন করে আবেদন জানাতে পারেন। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এক পক্ষ একে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলে দাবি করছে। অন্য পক্ষ বলছে আইন অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।