• ‘তৃণমূলের জঙ্গলরাজ মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে’, আরজি করের নির্যাতিতার মাকে পাশে নিয়ে মন্তব্য মোদীর
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রত্যাশিত ভাবেই আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভা ভোটে পানিহাটি কেন্দ্রে আরজি করের নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁর সমর্থনে সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এই মা মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা তাঁর মাকে প্রার্থী করেছি।’

    ২০২৪ সালের ৯ অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের উদ্ধার দেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরে ঘটনার তদন্তভার যায় কলকাতা পুলিশের হাতে। শেষ পর্যন্ত নিম্ন আদালত সঞ্জয়কেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেয়। তখন থেকেই সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। মেয়েকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় আর কেউ কেন ধরা পড়েননি, মূলত তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। ঘটনাচক্রে, সিবিআই প্রশাসনিক ভাবে কর্মীবর্গ মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে, যা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও)-এর আওতাধীন।

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই শিয়ালদহ আদালতে আরজি করে ধর্ষণ-খুনের মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিবিআই। সেই সময় আদালতে হাজির ছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। পরে তাঁরা বাইরে বেরোলে তাঁদের সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার জবাবে নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তবে প্রচারে তা তুলে ধরা হচ্ছে না। আজ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই।’ একই প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘কাজ না-করলে তো অভিযোগ থাকবে। যা বলার ৪ তারিখের পর বলব। সবই বিচারাধীন।’

    নির্যাতিতার মা বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই লাগাতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর কিছু মন্তব্যে বিতর্কও হয়েছে। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা নির্বাচনী জনসভা থেকে নির্যাতিতার মায়ের নাম না–করে তাঁকে সৌজন্য বজায় রাখতে বার্তা দিয়েছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি পানিহাটিতে প্রচারে এসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিজেপি প্রার্থীকে কেউ যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম করে আক্রমণ না–করেন।

    শুক্রবার পানিহাটির সভায় আরজি কর ঘটনার পাশাপাশি সন্দেশখালির ঘটনার প্রসঙ্গও টেনেছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘সন্দেশখালির মহিলাদের লড়ার সুযোগ দিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূল তাঁদেরও গালিগালাজ করেছে।’ মোদীর সংযোজন, ‘তৃণমূল নারীবিরোধী দল। বিজেপি নারীদের অগ্রগতি চায়। তৃণমূলের যে সব গুন্ডারা মহিলাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে, ৪ মে তাদের সকলের ফাইল খোলা হবে। আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে আশীর্বাদ করুন। কথা দিচ্ছি, তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি দেব।’

    বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ১৫২ আসনে ভোট হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, প্রথম দফাতেই বিজেপির ১১০টির বেশি আসন পাবে। মোদীরও দাবি, ‘রাজ্যের মানুষ যে পরিবর্তন চাইছে, তাতে সিলমোহর পড়েছে গতকাল। কাল বিজেপির যে সমর্থন দেখলাম, তাতে বিজেপির জয় নিশ্চিত। তৃণমূল বাংলার গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছিল। কাল তা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই গতকালের ভোট দেখে তৃণমূল নেতারা হতচকিত। তৃণমূল নিজেদের গুন্ডাদের বলছিল, মাঠে এসো মাঠে এসো। বাংলা বিপ্লবের ধাত্রীভূমি। প্রদীপ নেভার সময় যেমন বেশি করে জ্বলে ওঠে, তৃণমূলেরও তাই অবস্থা হয়েছে। ৪ মে বিজেপির সরকার এলে, তৃণমূলের গুন্ডারা লুকোনোর জায়গা পাবে না।’

    অন্য দিকে, তৃণমূলও জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী। দলের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, প্রথম দফাতেই তৃণমূল ১৩২টির বেশি আসন পেয়ে যাবে। অভিষেকও বলেছেন, ‘প্রথম দফাতেই বিজেপির দফারফা করে দিয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)