গঙ্গাবক্ষে নৌকাভ্রমণ তিলোত্তমাবাসীর কাছে এক ‘নস্টালজিয়া’। জলের উপরে ভেসে মোহময়ী শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করার স্বাদ ছাড়তে পারলেন না স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। নির্বাচনী প্রচারের জন্য বৃহস্পতিবার রাজ্যে ছিলেন মোদী। শুক্রবার সকালে তিনি কলকাতার মিলেনিয়াম পার্কের কাছে গোয়ালিয়র ঘাট থেকে নৌকাবিহারে যান। ছবি তোলেন, জনসংযোগ করেন। তবে তাঁর এই নৌকা ভ্রমণের পরেই রাতারাতি সেলিব্রিটি সেই নৌকার মালিক শেখ ইফতেকার, মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ ইফতেকার বলেন, ‘কিছু লোকজন এসেছিলেন। বলা হয়েছিল, সাতটি নৌকা লাগবে। কোনও একজন ভিভিআইপি নৌকা চড়বেন। সেইমতো সাতটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়।’
নৌকায় চড়ার আগে কিছুক্ষণের জন্য গঙ্গার ধারে মর্নিং ওয়াক করেন মোদী। নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণ আগে শেখ ইফতেকারকে জানানো হয়, সাতটি নৌকার মধ্যে একটিতে থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কয়েক মুহূর্তের পরেই নৌকায় এসে ওঠেন মোদী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। মোদী যে নৌকায় উঠেছিলেন, তাঁর মাঝি ছিলেন গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। শুরু হয় মোদীর নৌকাবিহার। নৌকার মাঝি গৌরাঙ্গ বলেন, ‘এক ঘণ্টা উনি নৌকা চড়েছেন। নৌকা থেকে নেমে আমার নাম জিজ্ঞাসা করেছেন। এক হাজার টাকা নৌকা ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’
শেখ ইফতেকার বলেন, ‘উনি আমাদের সঙ্গে বেশি কিছু কথা বলেননি। তবে যাওয়ার সময়ে বলেন, সবাই ভালো থাকবেন। একসঙ্গে মিলেমিশে থাকবেন। আমাদের নমস্কার জানিয়ে চলে যান।’ প্রধানমন্ত্রী, তাঁর নিরাপত্তারক্ষী-সহ গোটা টিম চলে যাওয়ার পরে সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহকরা ছেঁকে ধরেন শেখ ইফতেকারকে। গোটা পর্বটি যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না তিনি। চোখেমুখে শুধুই অপার বিস্ময়।