• 'ঝোপড়পট্টির শহর', অমিত শাহের মন্তব্যে বিতর্ক, কলকাতা কি সত্যিই ‘বস্তির শহর’?
    আজ তক | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা বহুদিন ধরেই নানা নামে পরিচিত। কেউ একে ভালোবেসে বলেন ‘সিটি অফ জয়’, আবার ব্রিটিশ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং একসময় একে বলেছিলেন ‘সিটি অফ ড্রেডফুল নাইট’। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কে শহরটি নতুন এক তকমা পেয়েছে, ‘বস্তির শহর’।

    সম্প্রতি এক নির্বাচনী সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, বামফ্রন্ট ও বর্তমান শাসকদলের আমলে কলকাতা নাকি ‘ঝোপড়পট্টির শহরে’ পরিণত হয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতা এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

    বাস্তব চিত্র কী?
    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ভরসা করতে হয় সর্বশেষ ভারতের জনগণনা ২০১১-এর পরিসংখ্যানের ওপর।

    কলকাতার বস্তির চিত্র
    ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রায় ২,০১১টি লিখিত এবং প্রায় ৩,৫০০টি অলিখিত বস্তি রয়েছে। এইসব এলাকায় প্রায় ৩ লক্ষের বেশি পরিবারে বসবাস করেন আনুমানিক ১৪.৯ লক্ষ মানুষ। শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ বস্তিতে বাস করেন।

    অন্যান্য মহানগরের সঙ্গে তুলনা
    ভারতের অন্যান্য বড় শহরের ছবিটাও খুব আলাদা নয়-মুম্বই: প্রায় ৪২% মানুষ বস্তিতে বাস করেন (৫.২ মিলিয়ন)চেন্নাই: প্রায় ২৮%দিল্লি: প্রায় ১৫%
    অর্থাৎ শতাংশের বিচারে কলকাতা শীর্ষে নয়, বরং মুম্বাইয়ের তুলনায় কম, আর চেন্নাইয়ের কাছাকাছি।

    কী বোঝা যাচ্ছে?
    বাস্তবতা হলো, ভারতের প্রায় সব বড় শহরেই বস্তি রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, কাজের খোঁজে মানুষের শহরমুখী হওয়া এবং আবাসনের ঘাটতি, এই সব কারণেই এই চিত্র তৈরি হয়েছে।

    তাই শুধুমাত্র কলকাতাকে আলাদা করে ‘বস্তির শহর’ বলা তথ্যগতভাবে একপাক্ষিক। শহরে বস্তি রয়েছে, এটা যেমন সত্যি, তেমনই এটাও সত্যি যে, দেশের অন্যান্য মহানগরেও একই সমস্যা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি মাত্রায়।

     
  • Link to this news (আজ তক)