বঙ্গের প্রথম দফা ভোট (West Bengal Assembly Election) হিংসামুক্ত, শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালতও। শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির আগে এনিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে বাংলায় ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি।” প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের আরেক বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও এনিয়ে আনন্দিত। বাংলার নির্বাচন পর্বের প্রশংসা করেছেন সলিসিটর জেনারেল তথা কমিশনের আইনজীবী তুষার মেহতাও। তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করতে দেখা গেল রাজ্যের আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি কমিশনের আইনজীবীকে বাংলায় আমন্ত্রণও জানান।
শুক্রবার শুনানি শুরু হতেই রাজ্যের প্রথম দফা ভোট (West Bengal Assembly Election) নিয়ে আলোচনা করেন সকলে। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এবার ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা এসেও ভোট দিয়েছেন।” তাতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি।” এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি। মানুষ যখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।” কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বঙ্গে প্রথম দফার ভোট নিয়ে মন্তব্য করেন, ৯২ শতাংশ ভোট পড়া ঐতিহাসিক। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন।
এরপরই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশ। ওইদিনই নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান কল্যাণ। কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “৪ মে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” সেকথা শুনে প্রধান বিচারপতি বাগচীর সরস মন্তব্য, “উনি যদি আগে কলকাতায় আসতেন, তা হলে সেই দায়িত্ব আমারই থাকত।” প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ভোটাররা যদি নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের শক্তি উপলব্ধি করতে পারেন, তবে তাঁরা হিংসায় জড়ান না।