• ভোটদানে সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল তামিলনাড়ু, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কি চিন্তায় রাখবে স্ট্যালিনকে?
    প্রতিদিন | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • শুধু বাংলা নয়। তামিলনাড়ুও ভোটের সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙেছে বৃহস্পতিবার। তাহলে কি তামিলভূমে এবার প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া? ডিএমকের বিরুদ্ধে কি মানুষের অসন্তোষ রয়েছে?

    এর আগে তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার ছিল ৭৮.২৯ শতাংশ। ২০১১-র বিধানসভা ভোটে। সেবার জয়জয়কার হয়েছিল এআইএডিএমকের। সেই হার ছাপিয়ে এদিনের ব্যাপক সংখ্যায় ভোট পড়ার হার কীসের ইঙ্গিত? তা কি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার প্রতিফলন না ক্ষমতাসীন স্ট্যালিনের ডিএমকে সরকারের প্রতি আস্থারই ছবি, তা নিয়ে প্রত্যাশিতভাবেই চর্চা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

    ২৩৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৪ হাজার ২৩ জন ভোটপ্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করলেন মোট ৫.৭৩ কোটি ভোটারের ৮০ শতাংশের বেশি। ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণের এই রাজ্যে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ৬.২৯ কোটি। ২০২৫-এর অক্টোবরে ভোটার সংখ্যা ছিল ৬.৪১ কোটি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২০২১-এর লিস্ট থেকে ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৫.৭৩ কোটি। মহিলা ভোটার ২.৯৩ কোটি, পুরুষ ভোটার ২.৮৩ কোটি। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৭৭২৮ জন।

    নির্বাচনে মূল লড়াই ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এআইএডিএমকে-বিজেপি জোটের হলেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ভোটের ময়দানে জনপ্রিয় তামিল হিরো থলপতি বিজয়ের টিভিকে দলের প্রবেশে। তাই স্ট্যালিন, পালানিস্বামীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন বিজয়ও। ডিএমকে সভাপতি তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন লড়ছেন কোলাথুর কেন্দ্রে। চিপক-তিরুভালিকেনি কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন স্ট্যালিন-পুত্র উদয়নিধি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এআইএডিএমকে হাজারের উপর। সভাপতি পালানিস্বামী লড়ছেন সালেমের এডাপড্ডি কেন্দ্রে। বিজয় তিরুচিরাপল্লি পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন। সব হেভিওয়েট প্রার্থীর কেন্দ্রেই বিপুল ভোট পড়েছে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে বিরাট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা না থাকলেও অসন্তোষের চোরাস্রোত কাজ করছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিষেবা এবং আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে। তাছাড়া স্ট্যালিনের অতিরিক্ত ‘সনাতন বিরোধী’ মানসিকতাও চাপে ফেলতে পারে তাঁর সরকারকে। কিন্তু সেই অসন্তোষ সরাসরি এআইএডিএমকের ভোটবাক্সে পড়বে কিনা, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত বিজয় যদি ১০ শতাংশের বেশি ভোট পান, তাহলে তিনি ফ্যাক্টর হয়ে যেতে পারেন। কারণ বিজয় মূলত ডিএমকে বিরোধী ভোটের একটা অংশে থাবা বসাচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে বিজয় এবং এআইএডিএমকের ভোট কাটাকাটিই শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে দিতে পারে স্ট্যালিনকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)