ভোট আবহে ৩ দিন বন্ধ ছিল লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান ও বার। আবগারি দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে মদের দোকান খোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত লাগু ছিল সেই নির্দেশিকা। প্রথম দফা ভোট মিটতেই আজ রাজ্যের সব মদের দোকান খুলেছে। টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার মদের দোকান খোলায় সুরাপ্রেমীদের বাঁধভাঙা লাইন পড়ল জায়গায় জায়গায়। শহর থেকে জেলার ছোট, বড় সব মদের দোকানের সামনেই একই ছবি।
ভোট আবহে কার্যত করোনাকালের স্মৃতি ফিরল! লকডাউন শিথিল হতেই মদের দোকানের সামনে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের ছবি দেখা গিয়েছিল রাজ্যজুড়ে। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই শুক্রবার সকালে সেই একই ভিড় নজরে এল শহর থেকে জেলায়। জায়গায় জায়গায় মদের দোকানে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ল। এমনকী দোকানের ঝাঁপ খোলার আগেই অনেক মদের দোকানের সুরাপ্রেমীদের লম্বা লাইন দেখা দেল।
দুর্গাপুরের কাঁকসা ও সিটি সেন্টার এলাকায় চোখে পড়ল দীর্ঘ লাইন। একই চিত্র দেখা যায় কাঁকসার মুচিপাড়া এলাকাতেও। নিষেধাজ্ঞা উঠতেই দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ঢল। মদের দোকানের কর্মী উত্তম সাঁতরা জানান, “আমাদের কাছে নির্দেশিকা এসেছে দোকান খোলার। তবে কোনও সমস্যা হলে আবার বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সকাল থেকেই ভিড় যথেষ্ট রয়েছে।” প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।
যেখানে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম ছিল, এবার কেন তা বাড়িয়ে ৯৬ ঘণ্টা করা হল। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু থেকেই কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। এবার শুধু ভোট হওয়া জেলাগুলিতেই নয়, গোটা রাজ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এমনকী কলকাতাতেও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশিকা নিয়ে আবগারি দপ্তরের কাছে জানতেও চেয়েছিলেন সিইও।
জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ফের একই নিয়ম কার্যকর হবে গোটা রাজ্যজুড়ে। অর্থাৎ, ২৬ এপ্রিল সন্ধে ৬ টা থেকে ফের মদের দোকানগুলিতে তালা ঝুলবে। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় দফার মাঝে মাত্র আড়াইদিনের মতো মদের দোকান খোলার অনুমতি রয়েছে। শহর থেকে জেলায় ভিড়ের ছবি থেকেই স্পষ্ট যে, এই সময়টুকু কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চাইছেন না মদের দোকানের ব্যবসায়ী ও সুরাপ্রেমীরা।