• প্রথম দফায় ‘পদ্মগড়ে’ আশা পূরণ হল কি? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ধন্দে পদ্মশিবির!
    প্রতিদিন | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • যে পর্বে বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার কথা সেই পর্বে কি ঠিক ভোট হল? প্রথম দফার নির্বাচনের পর গেরুয়া শিবিরেরই তা নিয়ে ধন্দ রয়ে গেল।

    ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট (West Bengal Assembly Election) গ্রহণ হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া-পুরুলিয়া, আবার পূর্ব মেদিনীপুর, এই পর্বের ভোটে এই অংশ থেকেই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যাওয়ার জায়গা ছিল গেরুয়া শিবিরের। কারণ এই অংশ গত একুশের ভোটেও ভালো ফল করেছিল বিজেপি। 

    শুক্রবার অমিত শাহ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছেন, “১৫২ আসনের মধ্যে  আমরা ১১০-এর বেশি আসনে জিতব।” কিন্তু প্রশ্ন হল, কীসের ভিত্তিতে ১১০ আসন জেতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেন? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, ‘‘প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এখানে প্রবল। অনেকদিন পর বাড়ির মহিলারা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। তাঁরা সকলে দুর্নীতি থেকে মুক্তি চান। ভোটদানের হার এত বেশি। এসব পর্যালোচনা করেই আমরা সংখ্যাটা বুঝতে পেরেছি।” 

    কিন্তু এই পর্বের ভোটে কি সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছনো গেল? যে আশা ছিল তা কি পূরণ হল? সমগ্র উত্তরবঙ্গ ও গোটা জঙ্গলমহলের পাশাপাশি ভোট হয়েছে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট শেষ হয়েছে প্রথম দফায়। বৃহস্পতিবার রাতে অনেক জায়গায় ইভিএম ভর্তি গাড়ি দিকভ্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। শুক্রবার  সাংবাদিক সম্মেলনে শাহকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কর্মীদের মনোবল কমতে শুরু করেছে।   

    পরিসংখ‌্যান বলছে, প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election) ১৫২টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালের বিধানসভায় তৃণমূল জিতেছিল ৯২টিতে। বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন। বাকি ১৪২টি আসন, যেখানে ভোট হবে সেখানে বিজেপির দখলে ছিল গতবার মাত্র ১৮টি আসন। কাজেই বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার জায়গা এই প্রথম পর্বটাই। উত্তরবঙ্গ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুরে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। আবার মালদহে যদি মেরুকরণের ভোট হয়ে থাতে তাহলে বিজেপির একটা আশা রয়েছে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে অবশ‌্য প্রথম দফার বিধানসভাগুলির মধ্যে বিজেপি এগিয়েছিল ৫৩টি আসনে। ২০২১ সালে যে বাম-কংগ্রেস ছিল শূন্য, তারা আবার গত লোকসভা ভোটে ১২টি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে কংগ্রেস ১১টি এবং বামেরা একটিতে। এবার প্রথম দফার ভোটে অর্থাৎ ওয়ান ডে ক্রিকেটে ‘পাওয়ার প্লে’-তে কত বেশি রান বিজেপি তুলতে পারবে তা নিয়ে দলের মধ্যেই কাটাছেঁড়া ও বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গিয়েছে।

    মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও কোচবিহারে মেরুকরণের আবহ থাকায় বিজেপির ফল এখানে ভালো হয়েছিল। এবার মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অংশে মেরুকরণের আবহ আরও তীব্র হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বিজেপি আদৌ কি লাভবান হল তা নিয়ে একটা প্রশ্নও ঘুরছে দলের মধ্যে। আবার জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে প্রথম দফায় রাজবংশী ভোট কতটা ধরে রাখা গেল তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে পদ্মশিবিরের অন্দরে। কারণ, একতরফা দখল থাকা এই এলাকায় গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ধস নেমেছিল। আবার অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বিজেপির কিছুটা দূরত্ব থাকা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

    বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের আদিবাসী ভোট পেতে বিজেপি মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। ভোট প্রচারে সেখানে অর্জুন মুন্ডা, বাবুলাল মারান্ডির মতো নেতাদের আনা হয়েছিল। কিন্তু তাতে দল কতটা লাভবান হল প্রথম দফার ভোটে তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। এদিকে, নিচুতলা থেকে দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট নিয়েও চিন্তায় বিজেপি। কারণ, প্রথম দফার ভোটের দিন একাধিক বুথে দলের এজেন্ট ছিল না। এলাকায় কর্মীরা সেভাবে নামেনি। দলের কমিটেড ভোটারদের বুথমুখী করার ক্ষেত্রেও খামতি রয়ে গিয়েছে বিজেপির নিচুতলায়। সেসব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা চলেছে বিজেপির সল্টলেক অফিসে।

    এই অফিসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনশল, বিপ্লব দেব-দের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিচুতলার রিপোর্ট নিয়েছেন। পুরোটাই মনিটরিং করেছেন শাহ নিজেই। তবে প্রথম দফার ভোট নিয়ে বিজেপির দাবি, প্রথম দফায় ভাল ফল হতে চলেছে। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘‘১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে বিজেপি জয়ী হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সব জায়গাতেই তৃণমূল সাফ হয়ে যাবে।’’
  • Link to this news (প্রতিদিন)