‘স্বপ্ন মনে হচ্ছিল’, মাঝগঙ্গায় ঘুরিয়ে মোদিতে বুঁদ নৌকার মাঝি গৌরাঙ্গ!
প্রতিদিন | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল শুক্রবারের সকালটা। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানেই দিনটা বদলে গেল। সাধারণ সময় হয়ে উঠল অবিস্মরণীয়। বলা হচ্ছে গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের কথা। নামটা চেনা নয় তো? স্বাভাবিক। শুক্রবার সকালের আগে তাঁকে সেভাবে কেউ চিনতও না। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গৌরাঙ্গ হয়ে উঠলেন রীতিমতো সেলিব্রিটি। কারণ? তিনি আর সাধারণ নৌকার মাঝি নন, তাঁর দাঁড়ের টানে কলকাতায় নিশ্চিন্তে নৌকাবিহার করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)! হ্যাঁ, আজ সকালে যাঁর নৌকায় চড়ে গঙ্গাবক্ষে ঘুরে তিলোত্তমার ছবি তুলেছেন, তিনিই গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। যদিও নৌকাটি তাঁর নিজের নয়, মালিক অন্য কেউ। তাতে কী? প্রধানমন্ত্রী তো তাঁর সঙ্গে ঘুরলেন, গল্প করলেন। এমন সুযোগ ক’জনের হয়? ওই মুহূর্তগুলো গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের কাছে স্বপ্নের মতো। এমনই বলছেন তিনি।
প্রিন্সেপ ঘাট থেকে যেসব নৌকা গঙ্গার এপার-ওপার করে, তাদের মধ্যে অন্যতম গৌরাঙ্গ মাঝি। তিনি নৌকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। নৌকাগুলির মালিক মহম্মদ ইফতিকার আহমেদ। শুক্রবার সকালে যে তাঁর চার, পাঁচটি নৌকা জরুরি ভিত্তিতে ভাড়ার বরাত আসবে, ভাবতেও পারেননি। আচমকাই উচ্চমহল থেকে তলব। বলা হয়, ইফতিকারের নৌকায় ভিভিআইপি ঘুরবেন। তাঁকে নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে দেওয়া হবে। তারপরই চমক! গৌরাঙ্গ দেখেন, তাঁর নৌকার দিকে এগিয়ে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী! সাদামাটা পোশাক, চোখে সানগ্লাস, হাতে ক্যামেরা। প্রাথমিক ঘোর কাটিয়ে তিনি নৌকায় মোদিকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি মাঝগঙ্গায় ঘুরতে চান, কিছু ছবি তুলতে চান।
বেশ কিছুক্ষণ গৌরাঙ্গর নৌকায় গঙ্গাবিহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। গল্পও করেন। ভ্রমণ শেষে নৌকা ছেড়ে দেওয়ার পর গৌরাঙ্গকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন মাঝি। তাঁর কথায়, ‘‘আমি তো অভিভূত। মনে হচ্ছিল, স্বপ্ন দেখছি। উনি নিজের ক্যামেরা নিয়েই নৌকায় উঠেছিলেন। আমাকে বলেছিলেন মাঝগঙ্গায় নৌকা নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি তাঁর নির্দেশেই নৌকা চালিয়েছি। নৌকায় ভ্রমণের সময় নিজের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছিলেন তিনি।’’ গৌরাঙ্গ এও জানান যে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মিলেমিশে থাকার কথাও বলেছেন। এসবের পর মাঝিমহলে রীতিমতো ‘হিরো’ গৌরাঙ্গ। সকলে তাঁকে ঘিরে গল্প শুনতে আগ্রহী।