বিধানসভা ভোটের প্রথম দিন, ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা উদ্ধার হয়েছিল এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে দেহ দেখতে পান। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার অধীনে উত্তর দেবনিবাস এলাকার ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মৃতার নাম বলাকা ঘড়ুই (৬০)। তাঁদের দাবি, বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহে অনেকগুলি আঘাতের চিহ্ন ছিল। দ্রুত পুলিশকে খবর পাঠানো হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ওই ঘটনার একদিন পরে, ২৪ এপ্রিল শুক্রবার ওই বৃদ্ধাকে খুনের অভিযোগে তাঁর পুত্রবধূ টুম্পা ঘড়ুইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, টুম্পা তাঁর শাশুড়িকে কুপিয়ে খুন করে, পরে বাড়ি থেকে একটু দূরে নদীর পাড়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে গাছের ডালে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে। টুম্পা তাঁর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এই খুন করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। এর মধ্যেই পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। কিন্তু কেন এমন অভিযোগ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার রাতে বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ এসেছে। তাঁদের দাবি, বুধবার খুন করা হয়েছিল। পরদিন ঘরের ভিতর রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। পুলিশকে সেটা জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মৃতার আত্মীয় এবং পড়শি সুকুমার বেরা। তাঁর অভিযোগ, ‘পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নেয়নি, আসামীকে ছেড়ে দিয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসা পর্যন্ত দেখতে হবে বলেছিল। ঘর থেকে রক্ত পাওয়া গিয়েছে, পুলিশ এসে ছবি তুলেছে। অস্ত্রটাও মিলেছে। এখন গ্রেপ্তার করেছে।’
কেন খুন করবেন টুম্পা? সুকুমার বেরার অভিযোগ, ‘একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে ছিল ওই মহিলা। তা নিয়ে ওঁঁর শাশুড়ি ঝামেলা করছিল বলে মেরেছে।’ আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা বেরার অভিযোগ, অভিযুক্ত তাঁর স্বামীকেও মারধর করেছেন। বুধবার সেই ঝামেলায় টুম্পার স্বামী বেরিয়ে যায়। তারপরে বাড়িতে শাশুড়িতে টুম্পা কুপিয়ে মেরেছে বলে অভিযোগ তাঁর। মৃতার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।