প্রথম দফায় ভোট শেষ। সামনেই দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। শুক্রবার হাওড়ায় প্রচারে এসে প্রথম দফার ভোটদানের হারের প্রসঙ্গ তুলে মোদীকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দফার ভোটে বিজেপি বড় হারের মুখে পড়বে বলে জানিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমাদের মাইনাস জায়গাগুলি থেকে এগিয়ে গিয়েছি। বিজেপি যা ছিল, তার অর্ধেকও পাবে না।’
বাংলার ভোটের প্রথম দফায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। যা কার্যত রেকর্ড। সেই প্রসঙ্গ এ দিন মমতার ভাষণে এসেছে। মমতা বলেছেন, ‘অধিকার রক্ষা করার জন্য এত ভোট। এটা SIR-এর অত্যাচারের ফল।’ সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, ‘আপনাদের যাঁদের নাম আছে ভোটার লিস্টে। ভোট দিয়ে ভোটার স্লিপ সঙ্গে রেখে দেবেন। এদের আমি বিশ্বাস করি না।’
এরই সঙ্গে কেন্দ্রীয় এজেন্সির রেইড নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন তিনি, যা সাম্প্রতিক অতীতে মমতার মুখ থেকে শোনা যায়নি। হাওড়ার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘এই সরকার চেঞ্জ হলে দিল্লিতে... আইটি রেইড, কাস্টমস রেইড, ইডি রেইড, সিবিআই রেইড সরকারি পলিসি করে...আমি যদি ওঁদের সঙ্গে থাকি.. আমি না থাকলে তো হবে না। আমি করব... আমি জানি ব্যবসায়ীদের খুব সমস্যা হয়।’ রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, মমতা মূলত তাঁর যে অভিযোগ, হেনস্থার জন্য রেইড করার মতো ঘটনা বন্ধের ইঙ্গিত দিলেন?
এর আগে বার বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে না উঠে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সম্প্রতি আইপ্যাকের অফিসে হানা, তারও আগে তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তোপ দেগেছিলেন মমতা। তার আগে ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত বসেছে, তখনও তার সমালোচনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গা ভ্রমণ নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর তোপ, ‘বাংলার গঙ্গা আর দিল্লির যমুনা মিলিয়ে নিন। বাংলার গঙ্গা পরিষ্কার, তাই নৌকা করে হাওয়া খেয়েছেন সকালে। আপনি একবার দিল্লিতে যমুনা নদীতে গিয়ে ডুব দিয়ে আসবেন? দিল্লির যমুনা দূষণে ভর্তি।’
হাওড়া সভায় মমতার মুখে শোনা গিয়েছে বিহার প্রসঙ্গও। গত নির্বাচনে নীতিশ কুমারের সঙ্গে জোট করে বিহারে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নীতিশ কুমার। কিন্তু সম্প্রতি নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন। তাঁর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছেন বিজেপির সম্রাট চৌধরি। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতার বার্তা, ‘বিহারে দেখে নিয়েছেন। সামনে নীতিশ কুমারকে রেখে ভোট করেছিল। ভোট হয়ে গিয়েছে নীতিশকে সরিয়ে দিয়েছে।’
হোম ডেলিভারি যাঁরা করে, দোকানকর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার স্কিম নেই। তাঁদের জন্য নতুন করে স্কিম করার আশ্বাসও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। সভা শেষে মমতার বার্তা, ‘এ বার বদল নয়, গণতন্ত্রের বদলা চাই...।’