• ‘দেখে ভালো লাগছে, গর্ব বোধ করছি’, বাংলার প্রথম দফা ভোটের প্রশংসা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • বেনজির ভোট চিত্র, রেকর্ড ভোটদান। ২৬-এ বাংলার প্রথম দফার ভোট নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশের শীর্ষ আদালতও। শুক্রবার SIR সংক্রান্ত এক মামলায় বাংলার ভোট প্রসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদানের নজির দেখে খুশি বিচারপতিরাও।

    এ দিন সদ্য সমাপ্ত বাংলার প্রথম দফা ভোট নিয়ে কথা উঠতে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘মানুষ যখন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তখন গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়।’ এই ভোটদানের এমন উচ্চ হার দেখে তিনি একজন নাগরিক হিসেবে ‘খুব গর্বিত’ বলেও জানিয়েছে বিচারপতি কান্ত।

    সুপ্রিম কোর্টে এদিন ভোট প্রসঙ্গ উঠলে শুনানির সময়ে জানানো হয় যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিকও পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, ভোটদানের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা কতটা বেড়েছে। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাও আদালতে জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়াকে প্রধান বিচারপতি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। এ বার তা হয়নি। ব্যতিক্রমী শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সবার প্রশংসা পাচ্ছে।’

    প্রসঙ্গত, ২৩ এপ্রিল বাংলার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফার ভোটে ১৫২টি আসনে প্রায় ৩.৬ কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন। ভোটের হারে ভেঙে গিয়েছে রাজ্যের সর্বকালের রেকর্ড।

    প্রথম দফার এই নির্বাচনে প্রায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় এবং মোট ভোটার উপস্থিতি ৯২ শতাংশেরও বেশি, যা রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। বিভিন্ন জেলাতেই ৯০ শতাংশের উপরে ভোট পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণেরই প্রমাণ।

    এই বিপুল ভোটদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই ভোটদানের রেকর্ড হারকে নিজেদের পক্ষে জনসমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বিপুল অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)