• প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, নার্সিংহোম ভাঙচুর ঘিরে উত্তপ্ত বর্ধমান শহর
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ। মৃতার নাম রিজিয়া খাতুন (২৩)। বাড়ি মঙ্গলকোট থানার আউসগ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বর্ধমান শহরের নবাবহাট বালিঘাট মোড় এলাকা এক নার্সিংহোম। শুক্রবার সকালের ঘটনা। ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

    পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই নার্সিংহোমে সিজ়ার করার জন্য ওই প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের ঠিক পরেই আচমকা প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তড়িঘড়ি মা ও সদ্যোজাত সন্তানকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার ভোরে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।​

    শুক্রবার ভোরে প্রসূতির মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর আত্মীয় ও পরিজনরা। তাঁদের অভিযোগ, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং ভুল চিকিৎসার কারণে মারা গিয়েছেন রিজিয়া। উত্তেজিত জনতা লাঠি ও বাঁশ নিয়ে নার্সিংহোমে চড়াও হয়। ভেঙে ফেলা হয় জানালার কাচ, আসবাবপত্র ও রিসেপশন কাউন্টার। আতঙ্কে অন্য রোগীরাও নার্সিংহোম ছেড়ে বেরিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার পুলিশ। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও থমথমে গোটা এলাকা।

    বর্ধমান থানায় মৃতার স্বামী মাসুম শেখ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতার মামা শেখ আলমের অভিযোগ, কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ওটিতে তোলা হয় প্রসূতিকে। তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পরিবারের অভিযোগ, ওই প্রসূতি কান্নাকাটি করায় তাঁকে চড় মারা হয়। শেখ আলম বলছেন, ‘সিজ়ারের পরে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। তারও অনেক পরে ভাগ্নীকে বর্ধমান মেডিক্যালে পাঠানো হয়।’ পরিবারের দাবি, জনতার ক্ষোভের মুখে অন্য রোগীদের ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।

    ​নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নার্সিংহোমের তরফে চিকিৎসক প্রণয় ঘোষ জানান, তাঁরা যথাযথ নিয়ম মেনেই, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী চিকিৎসা করেছে। রোগিনীর খিঁচুনি শুরু হলে তাঁকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

  • Link to this news (এই সময়)