• খাবার পৌঁছে দিতে দেরি হওয়ায় কুকথা! ডেলিভারি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মালদায়
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • দশ মিনিটে ডেলিভারি, বিফলে মূল্য ফেরত! নিছক বিজ্ঞাপন নয়। অভিযোগ, এমন কাজের চাপেই মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করেছেন পূজা পাল (২৪) নামে এক ফুড ডেলিভারি কর্মী। বৃহস্পতিবার রাতে পুরাতন মালদা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজিপল্লির বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করেন বাড়ির লোকজন। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি তাঁরা। আপাতত স্থানীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মৃত তরুণীর দেহ পাঠিয়েছে পুলিশ। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পূজা কলেজের পড়াশোনা শেষ করে ফুড ডেলিভারির কাজ নিয়েছিলেন। লোন নিয়ে একটা স্কুটিও কিনেছিলেন তিনি। বৃদ্ধ মা-বাবা আর দাদা-বৌদিকে নিয়ে মধ্যবিত্ত সংসার। দুটো বাড়তি রোজগারের আশাতেই ফুড ডেলিভারির কাজ করা তাঁর। গত দু’দিন ধরে শরীর খারাপ ছিল। কাজেও যাচ্ছিলেন না। বৃহস্পতিবার রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। খাওয়ার জন্য তাঁকে ডাকাডাকি করতে গিয়ে বাড়ির লোকজন দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক চেষ্টার পরে দরজা খুলে ঝুলন্ত অবস্থায় পূজাকে দেখতা পাওয়া যায়।

    বাড়ির লোকজনই তরুণীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আসে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁরা। তার পরে পূজার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বোনের মৃত্যুর জন্য কাজের চাপকেই দায়ী করেছেন পূজার দাদা চন্দন পাল। তিনি বলেন, ‘খাবার পৌঁছে দিতে দেরি হলে কুকথা বলতেন অনেকেই। সেই নিয়ে প্রায়ই মন খারাপ করত। হয়তো সেই কারণেই অবসাদে আত্মহত্যা করেছে।’

    শুক্রবার মৃত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পুরাতন মালদা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ হালদার। পরে তিনি বলেন, ‘মেয়েটি খুবই পরিশ্রমী ছিলেন। শুনছি, গত কয়েক দিন ধরেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কি না, সেটাই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে মালদা থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত তরুণীর ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর কল হিস্ট্রি খুঁটিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)