২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি যদি ২০০টির বেশি আসন পায়, তা হলে তিনি মাথার একদিক কামিয়ে বোলপুরে ঘুরবেন! শুক্রবার এই প্রতিজ্ঞাই করলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৫-২০টি আসন পাবে। অভিযোগ, অনুব্রতর এই মন্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করেছে বিজেপি। তা নিয়ে পদ্মশিবিরকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেতা বলেন, ‘কাল যেটা বলেছিলাম, সেটাকে বিজেপি এডিট করেছে। আমি বলেছিলাম, তৃণমূল ১৩০টা পাবে আর বিজেপি ১৫-২০টা আসন পাবে। কিন্তু সেটাকে ওরা উল্টে দিয়েছে। পাগল-ছাগল হয়ে যা হয় আর কী!’
পাল্টা বীরভূম সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নিজের দাম বাড়ানোর জন্য উনি এ সব বলছেন। উনি আরও চার বছর জেল খাটার জন্য তৈরি হোন। আর পাগল-ছাগল কে, সেটা ৪ তারিখের পর বোঝা যাবে।’
৯৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বাংলায় প্রথম দফার ১৫২ আসনে ভোটদানের হার। তা দেখে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই যুযুধান পক্ষই নানা দাবি করেছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, এই ভোট রাজ্যে ক্ষমতার ‘পরিবর্তন’-এর পক্ষে পড়েছে। পাল্টা শাসকদল দাবি করেছে, এই বিপুল ভোট পড়েছে এসআইআর-বিরোধিতার কারণে। অনুব্রত বলেন, ‘বোলপুরে স্কুলবাগান বলে একটা পাড়া আছে। সেখানে ৬৮-৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে না। এ বার হয়েছে ৯২ শতাংশ। ওখানকার ভদ্রলোকরা বেরোনই না। বাইরে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরাও আসেন না। এ বার কেন এল? বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য এল? এসআইআর-এ যেন নামটা থাকে, সে জন্য এল। এসআইআর-এর হয়রানিটা ওরা বুঝেছে। এসআইআর-এর সময় পাশে কে ছিলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর করে বিজেপির একেবারে কাল হলো। এই ভোটে বিজেপি একদম ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।’
বীরভূমের বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে হিসেবও দিয়েছেন অনুব্রত। বলেছেন, ‘ময়ূরেশ্বর ৩০-৩৫ হাজার ভোটে জিতব। সাঁইথিয়া ৩৫ হাজার ভোটে জিতব। বোলপুর ৬০ হাজার ভোটে জিতব। সিউড়ি ২০-২২ হাজার ভোটে জিতব। আর বোলপুর শহর এ বার লিড দেবে।’
বিজেপিও জবাব দিয়েছে। উদয় বলেন, ‘বাংলা যাতে বাংলাদেশ না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতেই হিন্দুরা ঢেলে ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে। তাই এত ভোট পড়েছে। আর ওঁর এ সব দাবি হাতির দাঁতের মতো। বাকিটা ৪ তারিখের পর বলব।’