• সংখ্যালঘু এলাকায় ‘স্লো ভোটিংয়ের’ ছক কমিশনের! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
    প্রতিদিন | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটগ্রহণের গতি কমিয়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ‘চক্রান্ত’ চলছে বলে বিশেষ সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচন কমিশনের সাহায্যেই এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, যার ফলে ভোটের (Bengal Election 2026) দিন বড়সড় অশান্তি এবং জনরোষ তৈরি হতে পারে। গোটা বিষয়টির পিছনে মদত রয়েছে বিজেপির।

    ▪️বিতর্কের মূলে কী?

    জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (সিইও)-র কাছে একটি বিশেষ সার্কুলার পাঠানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে জেলা অবজার্ভারদের কাছেও পৌঁছেছে। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটদান কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রত্যেক ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্রের সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশেষ করে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মহিলারা যারা বোরখা পরে ভোট দিতে আসবেন, তাদের ক্ষেত্রে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হবে। আর এক্ষেত্রেই আইনি ও সামাজিক জটিলতা দেখা দেবে বলে আশঙ্কা। কারণ, প্রচলিত নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারের পরিচয় নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকলে তা পরীক্ষা করার অধিকার মূলত পোলিং এজেন্ট বা প্রিসাইডিং অফিসারের থাকে। সেখানে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই হস্তক্ষেপ আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

    বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে:

    ১) মহিলা কর্মীর অভাব: কেন্দ্রীয় বাহিনীতে পর্যাপ্ত মহিলা সদস্য নেই। এমতাবস্থায় ভিন রাজ্যের বাহিনীর সামনে মুসলিম মহিলাদের মুখ দেখানোর বিষয়টি ধর্মীয় ও সামাজিক সেন্টিমেন্টে আঘাত করতে পারে।

     ২) ভোটের গতি হ্রাস: প্রতি পদে পরিচয় যাচাইয়ের নামে তল্লাশি চললে ভোটগ্রহণের গতি মারাত্মকভাবে কমে যাবে।

     ৩) জনরোষ ও অশান্তি: এ নিয়ে বুথের সামনে তর্কাতর্কি শুরু হলে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে অনেক সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে মহিলারা আতঙ্কে বুথমুখী নাও হতে পারেন।

    তাই পুরো বিষয়টির পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্তের বড়সড় অভিযোগ সামনে আসছে। বলা হচ্ছে এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। কারণ, সংখ্যালঘু ভোট সাধারণত শাসকদল তৃণমূলের বড় শক্তির জায়গা। তাই এই এলাকায় অশান্তি বা ধীরগতির ভোটদান পরোক্ষভাবে বিজেপির মতো বিরোধী দলগুলোকে সুবিধা করে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব বুথে বিরোধী পক্ষের সংগঠন দুর্বল, সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে ভোট প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার ছক কষা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাই ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা। তাই ওই নির্দেশ সামনে রেখেই নতুন পথ খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) নজরদারি শুরু করেছে।

    অন্যদিকে, মুসলিম ধর্মগুরুদের কাছেও এই খবর পৌঁছেছে। তারা সাধারণ মানুষকে এই ধরণের প্ররোচনায় পা না দিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কথা ভাবছেন। কারণ, প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তবে তাতে আখেরে গণতান্ত্রিক অধিকারই খর্ব হবে। তাই ভোট যাতে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করতে বিএলও দের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কারণ, বিএলও-রা চিহ্নিত করলে সেক্ষেত্রে কোনও সমস্যা থাকবে না। নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের আগে এই ‘বোরখা ইস্যু’ যে উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
  • Link to this news (প্রতিদিন)