ভোট মানেই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসত বীরভূম। বিরোধীদের হুমকি, ভয় দেখানো থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনার সাক্ষী থাকত অনুব্রত গড়। কিন্তু এবার কমিশনের সৌজন্যে ‘অন্য ভোট’ (Bengal Election 2026) দেখল এবার বাংলা। রেকর্ড সংখ্যক ভোটদান হয়েছে। আর এরপরেই শুরু হয়েছে আসন সংখ্যা নিয়ে চর্চা। কেউ বলছেন ১১০, তো কেউ বলছেন ১২৫! তবে বীরভূমের সব আসনেই তৃণমূল জয় পাবে বলেই আত্মবিশ্বাসী অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। শুধু তাই নয়, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। অনুব্রত বলেন, ”আমার ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবে এডিটিং করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট হয়েছে। ভোট হয় বীরভূমেও। এরপরেই আজ, শুক্রবার বোলপুরের জেলার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অনুব্রত মণ্ডল। সমাজমাধ্যমে ছড়ানো বিকৃত ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বক্তব্যকে কাটছাঁট করে পাল্টে দেওয়া হয়েছে। আমি বলেছিলাম, প্রথম দফার ভোটে ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৩০টি পাবে। বিজেপি পাবে মাত্র ১৫টি থেকে ২০টি আসন। এবারের ভোটে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পোলিং হয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। সাধারণত কিছু শতাংশ ভোট পড়ে থাকে, কিন্তু এবার কাউকে আলাদা করে ভোট দিতে ডাকতে হয়নি। পরিযায়ী শ্রমিক-সহ বাইরে থাকা অনেকেই ফিরে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। আমার ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবে এডিটিং করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ভোটের ফলাফল সম্পর্কে একটি ধারণা আগে থেকেই করা যায়। বীরভূম জেলার নলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বাধিক লিড মিলবে। পাশাপাশি সাঁইথিয়া ও ময়ূরেশ্বরে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকবে তৃণমূল। বোলপুরে প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জয় মিলবে। সিউড়িতেও প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হবে। জেলার শহরাঞ্চল থেকেও এবার লিড বাড়বে এবং বীরভূমের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটিতেই তৃণমূল জয়লাভ করবে। রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২৫০-তে পৌঁছবে। প্রত্যয়ী সুরে অনুব্রত মণ্ডল আরও বলেন, “আগামী ৪ তারিখ ভোট গণনার দিন বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি বাজানো হবে।”