• চার জনই কোটিপতি, তারই মধ্যে কারও বাড়ি নেই তো কারও গাড়ি!
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: কোটি টাকার মালিক তাঁরা প্রত্যেকেই, কিন্তু তারই মধ্যে কারও কারও গাড়ি নেই, তো কারও বাড়ি। আবার কারও বাড়ির দাম ৪ কোটি টাকা, কারও গাড়ির দাম ৮০ লক্ষ! বরাহনগর ও চৌরঙ্গির দুই বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ এবং সন্তোষ পাঠকের গাড়ি নেই। বিঘা বিঘা জমি এবং বাণিজ্যক ভবনের মালিক সন্তোষের নামে কোনও বাড়িও নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে তিনটি বাড়ি। হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবার বার্ষিক আয় কোটি টাকা। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে জোড়াফুলের প্রার্থী চিত্র–পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর আবার গত পাঁচ বছরে আয় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

    ভোটে প্রার্থী হতে গিয়ে পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে সজলের আয় ছিল ১৬,২০,৮৮০ টাকা। ওই অর্থবর্ষে তাঁর স্ত্রী তানিয়া ঘোষের আয় ১১,১৮,০৭০ টাকা। সজলের হাতে নগদ রয়েছে ৩,৮৪,৭৬৩ টাকা। দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭,৮৩,১৪৫ টাকা। ব্যাঙ্কে তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩৮,৮২৬ টাকা। ফিক্সড ডিপোজ়িট, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিমা মিলিয়ে সজলের বিনিয়োগের পরিমাণ ১,১৫,৪১,৫০০ টাকা। বরাহনগরের এই বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি নেই। তাঁর স্ত্রীর নামে ৪,৭৭,৯৮০ টাকা মূল্যের সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি রয়েছে। সজলের রয়েছে ৩৬,৯৪,০০০ টাকার সোনার গয়না। তাঁর স্ত্রীর রয়েছে ৫৯,৪০,০০০ টাকার সোনার গয়না। সব মিলিয়ে সজলের অস্থাবর সম্পত্তি ২,০৬,৪৬,১৬১ টাকার। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ১,৫৪,১১,০১৭ টাকার। স্থাবর সম্পত্তি বলতে হাওড়ায় একটি সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের মালিক সজল, বাজারদর ১,৮৩,৩৩,৩৩৪ টাকা।

    হলফনামায় শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫–এ তাঁর আয় ছিল ৯৭,৩৭,৬৬০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর আয় ১১,৬৯,০০০ টাকা। ৯টি ব্যাঙ্কে শীর্ষণ্যর জমা আছে ১২,৩২,৪৪৯ টাকা। ৫টি অ্যাকাউন্টে স্ত্রীর নামে আছে ২,২৭,৩৯৫ টাকা। ফিক্সড ডিপোজ়িট, পিপিএফ, রেকারিং, মিউচুয়াল ফান্ড–সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শীর্ষণ্যর নামে বড় অঙ্কের লগ্নিও আছে। বড় অঙ্কের জীবনবিমাও আছে তৃণমূল প্রার্থী ও তাঁর স্ত্রীর। গাড়ি আছে ২ জনেরই। শীর্ষণ্যর গাড়ির বাজারমূল্য ৬,৭১,০০০ টাকা, স্ত্রীর গাড়ির দাম ৭,৭২,০০০টাকা। তৃণমূল প্রার্থীর নামে সোনার গয়না এবং দামি অলঙ্কার আছে ৪৭ গ্রাম। ২১০ গ্রাম সোনা আছে স্ত্রীর। সব মিলিয়ে শীর্ষণ্যর অস্থাবর সম্পত্তি ৫,০৩,৭৪,২১৯ টাকার। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ১,২২,৪৫,৮৫৬ টাকার। শীর্ষণ্যর নামে থাকা ফ্ল্যাটের মূল্য দেড় কোটি টাকা। স্ত্রীর ফ্ল্যাটের দাম ১৬ লক্ষ টাকা।

    সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সন্তোষ পাঠকের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩,৪১,১২,৫৪১ টাকা। তাঁর স্ত্রী বিমলার অস্থাবর সম্পত্তি ৫,৭৯,৫৪,৬০৫ টাকার। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্কে জমা টাকা ছাড়াও শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড, পিপিএফ, বিমায় বিনিয়োগ। সন্তোষের কাছে থাকা সোনার গয়না এবং রুপোর বাসনের মূল্য ৯,২০,৫০০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর রয়েছে ১৩,০১,৮৮৮ টাকার গয়না ও বাসন। সন্তোষ বা তাঁর স্ত্রীর নামে গাড়ি নেই। স্থাবর সম্পত্তি বলতে বিহারের বক্সার জেলায় ৮.১৬ একর কৃষিজমি আছে। স্ত্রীর নামেও একই জেলায় ৬.৯৮ একর কৃষিজমি রয়েছে। বীরভূমের তারাপীঠে ৪.২৩৫ কাঠা অ-কৃষি জমিও রয়েছে সন্তোষের। তাঁর স্ত্রীর বিহারের বক্সার কেল্লার কাছে দু’টি প্লট রয়েছে। কলকাতার গার্স্টিন প্লেসে সস্ত্রীক সন্তোষের একাধিক বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। সন্তোষের নামে বাড়ি না–থাকলেও স্ত্রীর তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সন্তোষের স্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার। দু’জনের ঋণ প্রায় চার কোটি টাকার।

    রাজ চক্রবর্তী হলফনামায় জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫–এ তাঁর আয় বেড়ে হয়েছে ৪১,৮৯,৩৩০ টাকা। ২০২০-২১ ছিল ৭,২৪,৩১০ টাকা। ২০২০-২১–এ স্ত্রী শুভশ্রীর আয় ছিল ৩৭,৭৭,৬৯০ টাকা। ২০২৪-২৫–এ তা বেড়ে হয়েছে ১,৬৮,৭৪,৫৪০ টাকা। শুভশ্রীর প্রায় ১৯০ ভরি গয়না রয়েছে ২,৬০,৬৮,০০০ টাকার। হলফনামা অনুসারে, রাজের দু’টি গাড়ি রয়েছে। একটির দাম ৮০,৬২,৪২৩ টাকা। রাজের মোট অস্থাবর সম্পত্তি ২,১০,৫১,১৬৭ টাকার। শুভশ্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ১৩,১৫,৩৬,৮৭৭ টাকার।

  • Link to this news (এই সময়)