• হিংসাহীন নির্বাচনে ভোটের হারে সুপ্রিম–সন্তোষ
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটদানের এই হার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালতও। ‘সার’ মামলার শুনানিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি। মানুষ যখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তখন তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। ভোটাররা যদি নিজের ভোটের শক্তি উপলব্ধি করতে পারেন, তা হলেই তাঁরা হিংসায় জড়ান না।’ সিজেআই–এর কথার সূত্র ধরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ইঙ্গিতপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, ‘বাংলা ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়৷’ রাজনৈতিক দলগুলির সংঘাতে আমজনতার দশা যে অনেকটা উলুখাগড়ার মত হয়ে যায়, সে কথা বুঝিয়ে দিয়ে বিচারপতি বাগচীও এ বার বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন ‘এ বার হিংসার ছবি পালটে গিয়েছে৷’

    তবে প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও যে প্রশ্নটা এখনও রয়ে গিয়েছে সেটা হলো, ‘অ্যাজুডিকেশনে’ বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের কী হবে? তাঁদের মধ্যে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল যে ১৩৯ জনের নামে সিলমোহর দিয়েছিল, শুধুমাত্র তাঁদের নাম প্রথম দফায় ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিল। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আরও কত লোকের নাম উঠবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে। এ দিন তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে সামান্য আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। আমরা আশা করেছিলাম, আরও বেশি সংখ্যক লোকের আবেদনের নিষ্পত্তি হবে৷’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আদালত বিষয়টি এ বার কলকাতা হাইকোর্টের উপরে ছেড়ে দিয়েছে। সিজেআই কান্ত বলেন, ‘ওই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যান।’ তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে নাম নিষ্পত্তি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা যাবে।

    এ দিনের শুনানিতে কল্যাণ জানান, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলায় ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি৷ কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া বাংলার ভোটগ্রহণ পর্ব ছিল পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ৷ ৯২ শতাংশ ভোটদানকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও দাবি করেন তিনি৷ এই প্রসঙ্গেই কেন্দ্রীয় বাহিনী খুব ভালো কাজ করেছে বলেও জানান মেহতা৷

    মালদার মোথাবাড়িতে জুডিশিয়াল অফিসারদের হেনস্থা সংক্রান্ত বিষয়টিরও এ দিন শুনানি হয়। এনআইএ–র তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অনুরোধ করেন, এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করার পাশাপাশি আরও তদন্তের জন্য কিছুদিন সময় প্রয়োজন৷ এই আর্জি মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত৷

    এ দিন আদালতের দ্বারস্থ হন রাজ্যের ৬৫ জন ভোটকর্মী৷ তাঁদের যুক্তি, তাঁরা সবাই রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, অথচ তাঁদের নামই নেই ভোটার তালিকায়৷ কোনও কারণ না দেখিয়েই তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে৷ তাঁদের আইনজীবী এমআর শামসাদ বলেন, ‘ওঁরা নির্বাচনের কাজ করছেন। অথচ ভোট দিতে পারছেন না। এটা কী রকম ব্যবস্থা? নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ভোটের ডিউটির যে নির্দেশ তাঁরা পেয়েছিলেন, তাতে তাঁদের সকলের এপিক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, সেই এপিক নম্বরের কোনও অস্তিত্বই নেই!’ সিজেআই কান্ত জানান, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও মামলাকারীদের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালেরই দ্বারস্থ হতে হবে। তারাই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। বিচারপতি বাগচীও বলেন, ‘এই নির্বাচনে হয়তো আপনারা ভোট দিতে পারবেন না। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি ভোটার তালিকায় নাম ওঠা।’

    এ দিনের শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডুকে আগামী ৪ মে নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে কল্যাণ হালকা চালে বলেন, ‘৪ মে আপনাকে কলকাতায় নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, আমরা সে দিন খাওয়াদাওয়া করবো, গল্পগুজব করব৷’ বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘উনি যদি আগে কলকাতায় আসতেন, তা হলে সেই দায়িত্ব আমারই থাকত।’ এ দিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, জরুরি বিষয় ছাড়া বাংলার ‘সার’ সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ করবে না সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে কলকাতা হাইকোর্টই৷

  • Link to this news (এই সময়)