• নিয়োগ দুর্নীতির ২০০ কোটি ফেরানোর শাহি আশ্বাস, পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীর প্যানেল খারিজের বর্ষপূর্তি ছিল বুধবার। আর বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারে এই ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীকে নিয়েই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে জনসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কাঠগড়ায় তোলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলনেত্রীর নাম করে তিনি বলেন, ‘মমতাদিদি ও তৃণমূলের নেতারা ২৬ হাজার যুবকের (শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী) নিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকা খেয়েছেন। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেই সেই টাকা তৃণমূলকে ফেরত দিতে হবে।’ এখানেই শেষ নয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে (৫ মে) বাংলায় চাকরি পেতে ও ব্যবসা করতে কাউকে কাটমানি দিতে হবে না বলেও শাহ উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেছেন। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অভিযোগের জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূলনেত্রী।

    শুক্রবার সন্ধেয় দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে মমতা পাল্টা দাবি করেছেন, ‘শিক্ষকদের চাকরি নিজেরা (বিজেপি) খেলো, তারপরে ওঁদের (শিক্ষক–শিক্ষিকা) ভুল বোঝাল! ওঁদের নাকি কোনও দোষই নেই।’ এই প্রসঙ্গে মধ্যপ্রদেশে ব্যাপম কেলেঙ্কারির ঘটনা টেনে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘সরকারি কর্মী নিয়োগ দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে ওরা (বিজেপি) ৫০ জনকে খুন করেছে। আমরা দু’কোটি ছেলেমেয়ের চাকরির ব্যবস্থা করেছি। যখনই নোটিফিকেশন (বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি) করি, সিপিএম বা বিজেপি হাইকোর্টে পিল (জনস্বার্থ মামলা) করেছে।’

    প্রসঙ্গত, স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ২০১৬–এর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি খারিজ করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০২৪–এর লোকসভা ভোটের আগে তিনি ইস্তফা দিয়ে তমলুকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। সেই মামলায় পরবর্তীতে রাজ্যে নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪–এর লোকসভা ভোটের মাঝেই ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষকর্মীর প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। রাজ্য সরকার এবং এসএসসি সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চও হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রাখে।

    ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের পাশে পেতে গত এক বছরে বামেদের মতো বিজেপি নেতারাও আন্দোলনকারীদের একাংশের সঙ্গে দেখা করেছেন। দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা। তবে এ দিন ক্ষমতায় এসে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ফেরত দেওয়ার শাহি আশ্বাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ। যদিও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কটাক্ষ, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে মধ্যপ্রদেশের ব্যাপম দুর্নীতির টাকা ও উত্তরপ্রদেশে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের টাকা বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের ফেরতের ব্যবস্থা করুন। তারপরে না হয়, বাংলায় টাকা ফেরতের কথা ভাববেন অমিত শাহরা।’

    ‘যোগ্য শিক্ষক–শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’র তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২০০ কোটি টাকা ফেরতের বার্তা নিয়ে এ দিন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মঞ্চের তরফে রাকেশ আলম বলেন, ‘২০১৬–এর সবাই টাকা দিয়ে চাকরি পাননি। কারা নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত ছিল ও টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে সেই তালিকা আদালত এবং এসএসসি–র কাছে আগেই জমা দিয়েছে। এখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিজেপি ভোটের পরে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সেই টাকা তৃণমূল নেতাদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু কারা সেই টাকা পাবেন? যে সব অযোগ্য প্রার্থী স্কুলে নিয়োগ নিশ্চিত করতে তৃণমূলের নেতা ও মন্ত্রীদের টাকা দিয়েছিলেন, তাঁরা!’ ‘যোগ্য’ শিক্ষাকর্মী অমিত মণ্ডলের সংযোজন, ‘এই টাকা দিয়ে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা আদালতের রায়ে টেন্টেড ও অযোগ্য। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে যোগ্যরা কোনও সুবিধা পাবেন না। দুর্নীতিগ্রস্তরা কি তা হলে ঘুষের টাকা ফেরত পাবেন!’



  • Link to this news (এই সময়)