• পরিবারতন্ত্র ছুড়ে ফেলার ডাক অভয়ার মায়ের
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, পানিহাটি: নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা ও দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাত বিধানসভার প্রার্থীদের সমর্থনে শুক্রবার অমরাবতী মাঠের সভায় ফের একবার ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে বিজেপির নেতা কর্মীরা যখন শান দিচ্ছেন, সেই সভাতেই অভয়ার মা প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবি তোলার পাশাপাশি বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের নেতৃত্বে তাঁর মেয়ের দেহ তড়িঘড়ি দাহ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পানিহাটি থেকে পরিবারতন্ত্রকে উৎখাত করার ডাক দিলেন। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল ও সিপিএম।

    শুক্রবার যে অমরাবতী মাঠে বিজেপির সভা ছিল, সেই মাঠ থেকে মেরেকেটে এক কিলোমিটার দূরে সোদপুর গোশালার মাঠে হেলিকপ্টারে নামেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পর সেখান থেকে গাড়িতে করে সভাস্থলে আসেন। রাস্তার দু’ধারে তখন মানুষের ভিড়। যা দেখে প্রধানমন্ত্রী গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে হাত নাড়তে থাকেন সাধারণ মানুষদের উদ্দেশে। আরজি করের নির্যাতিতা নিহত চিকিৎসকের বাড়ি এই পানিহাটিতেই। এবং পানিহাটির বিজেপির প্রার্থী খোদ অভয়ার মা।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং সহানুভূতির আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোট বাক্সে তার কতটা সুফল পাবে তা সময় বলবে। তবে এ দিনের সভা থেকে পাওয়া অক্সিজেন বিজেপি কতটা ধরে রাখতে পারবে সেটাই এখন প্রধান প্রশ্ন এই কেন্দ্রে। কারণ উল্টোদিকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে তীর্থঙ্কর ঘোষের মতো যুব নেতাকে। যিনি পাঁচ বারের বিধায়ক পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ নির্মল ঘোষের পুত্র। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা তীর্থঙ্কর কঠিন পিচে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। বাবার সাজানো বাগানে ফের একবার জোড়াফুল ফুটবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে বিজেপি যে সহানুভূতি এবং পরিবারতন্ত্রকে খোঁচা দিয়ে স্থানীয় মানুষের আবেগকে ছুঁয়ে ফেলেছেন তা মানছেন পানিহাটির বাসিন্দারাও।

    এ দিনের সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয় অভয়ার মাকে। বক্তব্যের শুরুতে আরজি কর হাসপাতালের মধ্যে সে দিন তাঁর মেয়ের উপরে হওয়া নারকীয় অত্যাচারের কথা ফের একবার তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি পানিহাটিতে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধেও সরব হন। বলেন, ‘পানিহাটির ঘোষ পরিবারকে মূল থেকে উপড়ে ফেলতে হবে৷ এরা কাউকে কিছু দেবে না। সব কিছু কেড়ে নেবে। এরাই আমার মেয়ের দেহ গ্রিন করিডর করে নিয়ে এসে দ্রুত পুড়িয়ে দিয়েছিল।’

    বিজেপি প্রার্থীর ওই মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ অভয়ার মায়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় দুই মিষ্টি ব্যবসায়ীর পাঁচ প্রজন্ম ধরে ব্যবসা চালানোর উদাহরণ টেনে এনেছেন। তীর্থঙ্কর বলেন, ‘ওদের তৈরি মিষ্টি তো মানুষ এখনও খাচ্ছেন। কারণ বিশ্বাস। তাই পানিহাটির মানুষও এতদিন ধরে পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্তদের উপরেই ভরসা রেখেছেন, এ বারও রাখবেন।’ পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্তদের সঙ্গে থেকে যেমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না, তেমনই পরিবারতন্ত্র মেনে চলা দলের সঙ্গে থেকে তৃণমূলের পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। বিজেপিতে অমিত শাহ থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিংদের মতোই তৃণমূলেও পরিবারতন্ত্রের রমরমা। একমাত্র বামেরাই ধর্ম, জাত, বর্ণ, পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষের কথা বলে।’

  • Link to this news (এই সময়)