এই সময়: সারা দেশে জাতীয় সড়কগুলির টোল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র। এর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারকেই পাখির চোখ করছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রক। জাতীয় সড়কের টোল প্লাজ়াগুলি দিয়ে গাড়ি যাতায়াত 'বাধাহীন' করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার লজিস্টিক শক্তি সামিট অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা জানান কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি।
এ দিন মন্ত্রী বলেন, 'চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের একাধিক জাতীয় সড়কে 'সিমলেস' বা বাধাহীন টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু যানজট কমানো নয়, বরং দেশের সামগ্রিক লজিস্টিক খরচ কমিয়ে অর্থনীতিতে আরও অক্সিজেন জোগানো।'
ভবিষ্যতে টোল প্লাজ়ায় গাড়ি থামানোর প্রয়োজন পড়বে না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রেকগনিশন বা এএনপিআর ক্যামেরা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া এবং আরএফআইডি-নির্ভর ফাস্ট্যাগ প্রযুক্তি। ফলে কোনও গাড়ি টোল প্লাজ়ার কাছে এলেই তার নম্বর প্লেট শনাক্ত হবে এবং ফাস্ট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে নির্দিষ্ট টোল কেটে নেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার ফলে সময়ের পাশাপাশি জ্বালানির অপচয় বাঁচানো সম্ভব হবে। যানবাহনের গতিও বাড়বে বলে তিনি জানান।
কোনও গাড়ি টোল প্লাজ়া দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। টোল না দিলে বা নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে ই-নোটিস পাঠানো হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা না দিলে ফাস্ট্যাগ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকী কেন্দ্রের 'বাহন' পোর্টালে উল্লেখ করা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, প্রযুক্তির সুবিধের পাশাপাশি শৃঙ্খলাও বজায় রাখতে জোর দিচ্ছে সরকার।
গড়কড়ি বলেন, 'ভারতকে সত্যিকারের বিশ্বশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে লজিস্টিক খরচ 'সিঙ্গল ডিজিট'-এ নামিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।' বর্তমানে দেশের লজিস্টিক খরচ প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে ১৬ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। এক যৌথ সমীক্ষায় এই তথ্য দিয়েছে আইআইটি চেন্নাই, আইআইটি কানপুর এবং আইআইএম ব্যাঙ্গালোর। আমেরিকা এবং ইউরোপে এই হার প্রায় ১২ শতাংশ, চিনে ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে।
দেশের অতিরিক্ত জ্বালানি নির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে গড়কড়ি জানান, দেশের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৭ শতাংশই আমদানি নির্ভর। এর জন্য ২২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এই বিপুল খরচ ও দূষণের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে বিকল্প জ্বালানি ও বায়ো-ফুয়েলের উপরে জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।