• ভোটের আগেই ‘‌হার’‌ স্বীকার এই তৃণমূল বিধায়কের
    আজকাল | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আগামী ৪ মে ঘোষণা হবে। কিন্তু তার আগে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভার ভোট গণনা কেন্দ্র অর্থাৎ জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস দাবি করলেন তিনি ভোটে হেরে গিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের ভোট গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে রয়েছে, এই খবর পেয়ে বায়রন বিশ্বাস সেখানে সদলে পৌঁছে যান। এরপরই সেখানে তাঁর সঙ্গে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন আধিকারিকের ‘‌মৃদু’‌ বচসা বেধে যায়। 

    এরপরই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বায়রন বিশ্বাস দাবি করেন, শুধু সাগরদিঘি কেন্দ্রে তিনি হারছেন না, জঙ্গিপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক জাকির হোসেন, ফরাক্কার তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম এবং সামশেরগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নুর আলমও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাবেন। তবে জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত চারটি বিধানসভার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বায়রন ‘‌ভবিষ্যদ্বাণী’‌ করলেও রঘুনাথগঞ্জ এবং সুতি বিধানসভায় ফলাফল কী হতে চলেছে তা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। 

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস খবর পান জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের স্টং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিকমতো কাজ করছে না। এরপর সটান তিনি সেখানে পৌঁছে যান এবং মহাকুমাশাসকের সঙ্গে সেখান থেকেই ফোনে কথা বলেন। গণনা কেন্দ্রের ভেতরে থাকা টিভিতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাচ্ছিল কিন্তু বাইরে সেই ফুটেজ দেখানোর ব্যবস্থা ছিল না। বায়রন বলেন, ‘আমি মহকুমাশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলি এবং আধঘন্টার মধ্যে বাইরে একটি টিভি লাগিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু রাত্রি ১১.‌১৭ মিনিটে প্রায় ১৭ মিনিট এবং ১২.‌৩৮ মিনিটে প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো বন্ধ ছিল।’‌ তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের সন্দেহ সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকাকালীন স্ট্রংরুমের ভেতরে ‘‌কিছু’‌ হয়ে থাকতে পারে। এরপরই মধ্যরাতের পর দ্বিতীয়বার বায়রন আবার গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তখন তিনি দাবি করতে থাকেন তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে স্ট্রং রুমের ভেতরে ইভিএম মেশিন দেখতে যেতে অনুমতি দিতে হবে। তবে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা বায়রনের এই দাবি মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। 

    সেই সময় বায়রন বিশ্বাস হঠাৎই চিৎকার করে রাজ্য সরকারের এক পুলিশ আধিকারিকের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘‌আপনি সরকারের বেতন নিচ্ছেদ আর সেন্ট্রাল ফোর্সের চামচাগিরি করছেন। গেট খুলুন এবং আমাকে ইভিএম দেখান।’‌ তবে ওই আধিকারিক গেট খুলতে রাজি না হওয়ায় কিছুটা ‘‌হুমকির’‌ সুরে বায়রন বিশ্বাস বলেন, ‘‌গেট খুলুন, না হলে চাকরি চলে যাবে। দিল্লি চলে যাবেন।’‌ কিন্তু এই ‘‌হুমকিতে’‌ও কাজ না হওয়ায় বায়রন বিশ্বাস বলতে শুরু করেন, ‘‌আমি হাতজোড় করছি, পা ধরছি কিন্তু গেটটা খুলুন।’‌ শেষে ‘‌পরাস্ত’‌ হয়ে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক বলেন, ‘‌সেন্ট্রাল বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আমি পারব না। দিদিও পারেননি। অভিষেকদাও পারছেন না। আমি তো বায়রন বিশ্বাস, আমি কী করে পারব?’‌ 

    সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক বলেন, ‘‌আমাকে বলা হচ্ছে ‘‌টেকনিক্যাল’‌ কারণের জন্য কিছু সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। আসলে এটা ‘‌টেকনিক্যাল ফল্ট’‌ নয় এটা দিল্লির ‘‌ফল্ট’‌ (পড়ুন দিল্লির নির্দেশে ক্যামেরা বন্ধ ছিল)।’‌ 

    বায়রন বলেন, ‘‌বাংলায় আর ভোট চলবে না। আমি নিজে তো হারছিই। এর পাশাপাশি জঙ্গিপুরে জাকির হোসেন, সামশেরগঞ্জে নুর আলম এবং ফরাক্কায় আমাদের দলের প্রার্থী আমিরুল ইসলামও হেরে যাবেন। তবে গোটা রাজ্যের খবর আমি জানি না। ওটা কেন্দ্রীয় বাহিনী জানে।’‌ বায়রন বলেন, ‘‌আমি চাই রাজ্যে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ যেই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন ন্যায্যভাবে ক্ষমতায় আসেন। দিদি –অভিষেকদা আমাদের লুঠমারি শেখায়নি।  আমরা জোর–জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। এখানে প্রশাসন বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তবে আমি জানতে চাই কত টাকায় তারা বিক্রি হয়েছে?‌ ৫০ লাখ না এক কোটি?‌ আমি দু’‌কোটি টাকা দিয়ে দেব। এরা কি বাংলায় থাকবে না, রাজ্যে কাজ করবে না?’‌ 

     
  • Link to this news (আজকাল)