• রাজ্যে এক কোটি ১৪ লক্ষ চাষিকে কৃষকবন্ধুর সুবিধা, মোদি-শাহের ‘কুম্ভীরাশ্রু’‌ই সার
    বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলার কৃষকদের নিয়ে মোদি, অমিত শাহদের ‘দুশ্চিন্তা’র শেষ নেই। প্রতিটি সভা থেকেই তাঁরা ‘কুম্ভীরাশ্রু’ ফেলছেন। বাদ যাচ্ছেন না ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। কিন্তু তথ্য বলছে, বাংলার কৃষকদের পাশে থেকেছেন মোদি নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁদের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনও বাছবিচার করেননি। সমস্ত স্তরের চাষিরা উপকৃত হয়েছেন। ভাগচাষিরাও সুবিধা পেয়েছেন। কৃষকবন্ধু প্রকল্পে রাজ্যের এক কোটি ১৪ লক্ষের বেশি চাষি উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৩০হাজার ৫১ কোটি টাকা পৌঁছেছে। এক লক্ষ ৭০হাজার কৃষকের পরিবার ৩৪১৯ কোটি টাকা মৃত্যুজনিত সুবিধা পেয়েছেন। সেখানে কেন্দ্র মাত্র অল্প সংখ্যক কৃষককে পিএম কিষান প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছে।

    কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পিএম কিষান প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ রয়েছে। বর্গাদার, খেতমজুররা এই প্রকল্পের সুবিধা পান না। প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার জন্য চাষিদের আয় দেখা হয়। চাষিরা সময়ে টাকাও পান না বলে অভিযোগ। ভাতারের তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার বলেন, বাংলার মানুষ মোদি, অমিত শাহদের মিথ্যাচার ধরে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষক বিরোধী সেটা একাধিকবার প্রমাণ হয়েছে। প্রতি বছর সারের দাম বাড়াচ্ছে। তারাই বাংলায় এসে কৃষকদের জন্য কুম্ভীরাশ্রু ঝরাচ্ছে। এতে কোনও লাভ হবে না। বিজেপি নেতাদের কথা মানুষ বিশ্বাস করে না। কৃষকবন্ধু ও শস্যবিমা প্রকল্প চালু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ করেছেন তিনি চাষিদের পাশে রয়েছেন।

    বিজেপি দাবি করছে, তারা ক্ষমতায় এলে বাংলার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করবে। কিন্তু কেন্দ্রে তারা ক্ষমতায় থাকার পরও কেন বাংলার চাষিদের জন্য প্রকল্প চালু করেনি তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো কয়েকদিন আগে খণ্ডঘোষে সভা করতে এসে বলেন, বাংলার কৃষকদের পাশে আমরাই থেকেছি। বিমার জন্য আলু বা ধান চাষিদের টাকা দিতে হয় না। ফসলের ক্ষতি হলে তাঁরা ক্ষতিপূরণ পান। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের জন্য চাষিরা উপকৃত হয়েছেন। গলসির বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বলেন, এরাজ্যের কৃষকরা ভাল নেই। আলুর ন্যায্য দাম তাঁরা পাচ্ছেন না। ধান কেনার ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেটা থাকবে না। চাষিদের জন্য একাধিক প্রকল্প আনা হবে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় কৃষকরাই ফ্যাক্টর। সেই কারণে তাঁদের মন জয় করার জন্য বিজেপির দিল্লির নেতারা কুম্ভীরাশ্রু ঝরাচ্ছে। কিন্তু তাতে লাভ হবে না। কারণ কৃষকবন্ধু বা শস্যবিমার মতো প্রকল্পের সুবিধা এরাজ্যের অধিকাংশ চাষি পেয়েছেন। গত বছরও বহু আলু চাষি বিমার টাকা পেয়েছেন। এছাড়া বছরের দু’টি মরশুমেই চাষিরা সঠিক সময়ে টাকা পেয়ে যায়। তাই দিল্লির নেতারা চাষিদের মন কতটা পাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মধ্যেই।
  • Link to this news (বর্তমান)