এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ নদীয়ায় বুথে বুথে সভা মহুয়ার
বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, তেহট্ট: তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করতে বুথ স্তর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে পথসভা করছেন কৃষ্ণনগরের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। তিনি তেহট্ট, পলাশীপাড়া, করিমপুর সহ সব জায়গায় প্রার্থীদের নিয়ে এই ধরনের সভা করছেন। এতে দলের কর্মীরা যেমন উৎসাহিত হচ্ছেন, তেমন বিরোধী দলে ভাঙন তৈরি হচ্ছে বলে জানান তৃণমূল কর্মীরা।
তৃণমূল সুত্রে জানা গিয়েছে, এবারের বিধানসভায় তেহট্ট মহকুমায় তিনটে বিধানসভা ধরে রাখা তৃণমূলের কাছে চ্যালঞ্জের। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনটে বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। তেহট্ট থেকে জয়ী হয়েছিলেন তাপস সাহা, করিমপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিমলেন্দু সিংহ রায় ও পলাশীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মানিক ভট্টাচার্য। তাপস সাহা মারা যাওয়ায় তেহট্ট বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী দেওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার। করিমপুর ও পলাশীপাড়া কেন্দ্রে দুই বিধায়ককে এবার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। পলাশীপাড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয় চাপড়ার তিনবারের বিধায়ক রুকবানুর রহমান ও করিমপুর কেন্দ্রের প্রার্থী অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। ফলে তিন বিধানসভায় নতুন প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। এই কারণে এই তিন কেন্দ্রে এবার লড়াই যে কঠিন, সেটা বুঝতে পেরেছে তারা। এবার এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল। সেই কারণে মহুয়া মৈত্রের নেতৃত্বে বুথে বুথে সভা করেছে তৃণমূল কর্মীরা। সেই সভায় প্রার্থীকে নিয়ে উপস্থিত থাকছেন সাংসদ নিজে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেহট্ট চাতরপাড়ার বুথে সাংসদ সভা করেন তেহট্ট বিধানসভার প্রার্থী দিলীপ পোদ্দারের সমর্থনে। ওই দিন তিনি সভা করেন পলাশীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের হাঁসপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হাঁসপুকুরিয়ায়। এখানে বিজেপি ও সিপিএম ছেড়ে দুই পঞ্চায়েত সদস্য সহ প্রায় একশো জন মহুয়া মৈত্রের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। এদিন এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তেহট্ট- ২ ব্লক সভাপতি হাসিফুল ম্যালিতা, তেহট্ট-২ ব্লকের চেয়ারম্যান দেবাশিস বিশ্বাস। তৃণমূলে যোগ দিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য অখিল শেখ বলেন, বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও তৃণমূলের উন্নয়ন দেখে আমি তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। একই ভাবে করিমপুরের প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীর সমর্থনেও তিনি বুথ স্তরে সভা করছেন। তৃণমূল কর্মীরা বলেন, সাংসদ যেভাবে বুথ স্তরে সভা করছেন তাতে আমরা উৎসাহিত হচ্ছি। আমরাও জোরকদমে নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য গতবারের থেকে বেশি মার্জিনে আমরা এই সব কেন্দ্রে জয়ী হওয়া।