• চেতলা, আলিপুরে মমতার পদযাত্রা জনপ্লাবনে ভাসলেন নেত্রী
    বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • অর্ক দে, কলকাতা; দুপুরের পর থেকেই ভিড় জমছিল আলিপুরের গোপালনগরে। সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে। রঙিন বেলুন, ঢাক-ঢোল, শঙ্খ-উলুধ্বনিতে গমগম করছিল গোটা চত্বর। ৫টা বেজে ২১ মিনিটে তিনি এলেন। আর তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল গোটা গোপালনগর। তারপরেই ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনপ্লাবনে মিশে শুরু করলেন তাঁর পদযাত্রা। 

    এদিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে জনসংযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ফিরহাদ হাকিম, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবলীনা বিশ্বাস, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অসীম বসু সহ অনেকে। গোপালনগর মোড় হয়ে চেতলা হাট রোড, চেতলা বাজার, রাখাল দাস আঢ্য রোড, গোবিন্দ আঢ্য রোড, আলিপুর রোড, দুর্গাপুর লেন, সংলগ্ন রাজা সন্তোষ রোড ছুঁয়ে ফের আলিপুর রোডে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল। তারপর দারোয়ান পাড়া, চেতলা হাট রোড হয়ে পরমহংসদেব রোডে শেষ হয় তাঁর পদযাত্রা। প্রায় তিন কিমি পথে এদিন হেঁটেছেন তৃণমূল নেত্রী। রাস্তার চারপাশে দলীয় প্রতি এবং স্লোগান লেখা শাড়ি পরে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। কখনো মালা দিয়ে, কখনো ফুল ছিটিয়ে জননেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁরা। পথে কখনো মন্দির, কখনো-বা মসজিদ এসেছে। প্রণাম জানিয়েছেন মমতা। তাঁর হাতে মাকালীর ছবিও তুলে দিয়েছেন কেউ কেউ। ভিড়ের চাপে বারবার থমকেছে মমতার পথ। কখনো বয়স্ক মানুষকে ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন, আবার অভিভাবকের আবদারে বাচ্চাকে দিয়েছেন স্নেহের পরশ। গোটা পথে জনপ্লাবনে ভেসেছেন জননেত্রী। হাত নেড়ে, নমস্কার-প্রতি নমস্কারে এগিয়ে গিয়েছে মমতার পথ। ‘জয় বাংলা’, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়েছে চারিদিক। মমতাকে দেখতে আম জনতার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। চেতলা হাট রোডের মহিলাদের পার্লার থেকে বেরিয়ে আসা রিয়া গুপ্ত, কিংবা বেসরকারি ব্যাংক থেকে শিবম মজুমদার থেকে শুরু করে মুদি দোকান-কাপড়ের দোকানের কর্মী—কে নেই সেই তালিকায়! 

    হাতের মোবাইল বার করে কেউ ফেসবুক লাইভ করেছেন, কেউ আবার মমতাকে দেখার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন ছবিতে কিংবা ভিডিয়োতে। যত এগিয়েছে পথ, ততই বেড়েছে কালো মাথার ভিড়। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই ভিড় বাইরে থেকে ভাড়া করে আনা নয়। এটা স্বতঃস্ফূর্ত। সেই দাবি যে খুব একটা ভুল নয়, তার প্রমাণ মেলে মমতার পদযাত্রার গোটা পথেই। বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়ি, অভিজাত আবাসন থেকে বেরিয়ে এসেও মমতাকে একটিবারের জন্য দেখতে রাস্তার ধারে ভিড় করেছিলেন বয়স্ক থেকে জেন-জি’রা। তাঁদের চোখে মুখের সেই চাউনি, উচ্ছ্বাসে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। এই ভিড়ই মমতার কয়েক দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আসল পুঁজি! রাজনৈতিক মহলের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনে ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো মার্জিনে এগিয়ে থাকলেও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড ‘অস্বস্তি’ দিয়েছে। এদিন সেই আলিপুর অঞ্চলের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ো রাস্তা থেকে গলিপথ সর্বত্র চষে বেড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

    এই পদযাত্রা শেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যান বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানেও ওয়াটগঞ্জ অঞ্চলে পদযাত্রা করেন সকলের প্রিয় নেত্রী। তারপর ভূকৈলাসে জনসভা ছিল তাঁর। সেখানেও স্বতঃস্ফূর্ত জনপ্লাবন ছিল মমতাকে ঘিরে।
  • Link to this news (বর্তমান)