নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির বলাগড়ের জিরাটে আছে বিজেপির পূর্বজ দল জনসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সাবেক বাড়ি। বৃহস্পতিবার সেই বলাগড়ে এসে ওই বাড়িকে ঘিরে স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র করার কথা ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। তারপরেই বলাগড়ে তরজার পালে তুফান উঠেছে। ওই কাজের জন্য শাহ, কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বলাগড়ের জ্বলন্ত সমস্যা গঙ্গাভাঙন নিয়ে কোনো প্রকল্প দূরঅস্ত, একটি কথাও পাড়েননি। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, জিরাটের গার্লস স্কুলের পাশে শ্যামাপ্রসাদের ভিটে। সেখান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গা। আর ভাঙনের কেন্দ্র তা দু’কিমি দূরে। শুক্রবার দিনভর বলাগড়ের চর্চায়
ছিল, কোটি টাকার প্রকল্প যদি ভাঙনে তলিয়ে যায়!
বিজেপির একাংশের দাবি, কার্যত সর্বনাশ ডেকে আনলেন শাহ। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকে হাতিয়ার করতে গিয়ে নাগরিকদের জ্বলন্ত সমস্যাকে উপেক্ষা করেছেন। এর ফল ভালো হবে না। পদ্মপার্টির এক কর্মী বলেন, আরও একটি সর্বনাশ ডেকে এনেছেন অমিত শাহ। বলাগড়ে বিজেপি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট করবে বলে প্রচার করেছে। ওই বিষয়েও তিনি মুখ খোলেননি। ফলে, বিজেপির দাবি ভুয়ো কি না, সে প্রশ্নেও ভাঙন কবলিত বলাগড়ের পদ্মপার্টির জনভিত্তিতে ফাটল ধরেছে। বিপদ বুঝে বিজেপি নেত্রী তথা বলাগড়ের পদ্মপ্রার্থী সুমনা সরকার বলতে শুরু করেছেন, পোর্ট তৈরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তাই এনিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না। সুমনা শুক্রবার বলেন, ভাঙন বলাগড় বিধানসভার বড়ো সমস্যা নয়। সমস্যা হল কর্মসংস্থান। আমরা ক্ষমতায় এলে ভাঙন রুখে দেব। আর পোর্ট তৈরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করার পরে আর কারও বলার প্রয়োজন পড়ে না। অমিত শাহ যে বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, তাতে বলাগড় উল্লসিত।
জিরাটের তৃণমূল নেতা সঞ্জয় রায় বলেন, আশুতোষবাবু, শ্যামাপ্রসাদবাবুরা বহুদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁরা শ্রদ্ধেয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিজেপির বিবেক এতদিন পরে জাগল কেন? আসলে ভোট এসেছে তাই। আর বলাগড়ে ভাঙন কোনো সমস্যা নয়, এটা যিনি বলতে পারেন, মানুষ তাঁকে ভোটবাক্সে বুঝিয়ে দেবেন। আমরা শুধু ভাবছি, ভাঙন এলাকার কাছেই শ্যামাপ্রসাদের ভিটে। গঙ্গা যদি সেটিও গিলে নেয়? ক্ষুব্ধ সিপিএমও। স্থানীয় প্রার্থী বিকাশ গোলদার বলেন, বিজেপি ভোট রাজনীতি করতে গিয়ে মানুষকে ভুলে যাচ্ছে। কারও স্মৃতি সংরক্ষণ করা জরুরি হতে পারে, কিন্তু ভাঙনের কবল থেকে মানুষকে বাঁচানো আরও জরুরি। পোর্ট নিয়েও ভুয়ো প্রচার করছে বিজেপি। অমিত শাহর নীরবতা সেটাই প্রমাণ করে। ঠিক-ভুল, সত্যি-মিথ্যা নিয়ে তরজার মাঝে একটি বড়ো সত্য এই যে, বিজেপি সত্যিই বিপাকে পড়েছে। দলের বলাগড়ের এক নেতা বলেন, একটা প্রবাদ মনে পড়ছে। অসুস্থ ব্যক্তি যখন ডাক্তার আসার পরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন বলা হয়, ‘যাও ছিল শুয়ে বসে তাও গেল বদ্যি এসে।’ এখন আমাদের অবস্থা এটাই।