বাইকে বিধিনিষেধ নিয়ে নির্দেশ খারিজ, হাইকোর্টে ধাক্কা কমিশনের!
বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দু দিন আগে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশিকা খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। এর আগে এই মামলায় রীতিমত ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল কমিশন। বিচারপতিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘অযৌক্তিকভাবে সব কিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ শুক্রবার সেই মামলাতেই আদালত জানিয়ে দিল, ৪৮ ঘণ্টা নয়, ভোটের আগের ১২ ঘন্টায় বাইক চলাচলে আংশিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সূত্রের খবর, সিঙ্গেল বেঞ্চের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হচ্ছে কমিশন। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে আদালতের এহেন নির্দেশে রীতিমতো স্বস্তি পেলেন বাইক আরোহীরা।
এদিন মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কাছে অনবরত অভিযোগ আসছে, বাইক চেপে এসে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাইকে করে পালিয়ে যাওয়া সহজ। বাইকে করে নাকা তল্লাশির এলাকা এড়িয়ে যাওয়া সহজ।’ একইসঙ্গে তাঁর যুক্তি ছিল, ‘যে ব্যক্তি বাইকের পিছনে বসে, সেই অপরাধ বেশি করে থাকে।’ রাজ্যের তরফে এদিন আদালতে পাল্টা বলা হয়, ‘আইনের কোন ধারায় বাইক নিষিদ্ধ করা হল, জানাতে পারেনি কমিশন।’ যার প্রেক্ষিতে বিচারপতি রাও জানতে চান, ‘আইনের কোন ধারায় কমিশন এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে?’ সেই সঙ্গে কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি আরও বলেন, ‘বাইক মিছিলের ক্ষেত্রে আপনারা ১১০ ভাগ সঠিক।’ কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী জানান, বাইকে বিধি নিষেধের ক্ষেত্রে একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তখন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেন, “যাঁরা মজদুর, যাঁরা কোচিং সেন্টার চালান, যাঁরা সাধারণ শ্রমিক, তাঁরা পরিচয়পত্র কোথায় পাবেন? পরিচয়পত্র না দেখালে তো আপনারা ছাড় দেবেন না।’ একইসঙ্গে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘নির্বাচনের দিন এই বিধিনিষেধ আরোপ করলে বোঝা যায়। কিন্তু, এত তাড়াতাড়ি কেন? আপনার কাছে রাজ্য পুলিশ আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে। আপনারা তাদের ব্যবহার করুন। কেউ যেন বাইক নিয়ে বুথের কাছে যেতে না পারেন, সেটা দেখুন।’ কমিশনের আর এক আইনজীবী ডিএস নাইডু তখন বলেন, ‘এই রাজ্যে ভোটে হিংসার ইতিহাস আছে। আমরা সব তথ্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অস্বাভাবিক কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’ ডিএস নাইডু আরও বলেন, ‘রাজ্য সহযোগিতা না করলে আমরা নিয়ম লাগু করতে পারব না। আর এখানে রাজ্য বলছে, যে আমরা বেআইনি কাজ করছি!’ তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘যান নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু বাইককেই কেন বাছলেন?’ আইনজীবী নাইডু বলেন, ‘কমিশন নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থেকে এই কাজ করেছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা এই পদক্ষেপ করেছি।’ মামলাকারীর আইনজীবী শামীম আহমেদ নিজের সওয়ালে বলেন, ‘কমিশনের একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাজ ও গুজরাট হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল।’ সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর রায়দান সাময়িক স্থগিত রাখেন বিচারপতি। পরবর্তীতে রায় দিয়ে বিচারপতি রাও জানিয়ে দেন, ৪৮ ঘণ্টা নয়, ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ছ'টা থেকে ভোটের দিন সকাল ছ’টা পর্যন্ত বাইকের পিছনের আসনে কোন সওয়ারি নেওয়া যাবে না। তবে চিকিৎসা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য পরিবারের লোককে পিছনে বসিয়ে যাওয়া যাবে। ভোটের দিনও সকাল ছ'টা থেকে সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত একই নিয়ম কার্যকর থাকবে।