• ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুরে উন্নয়নের তিন প্রতিশ্রুতি অভিষেকের, উজ্জীবিত জনতা
    বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সুদীপ্ত কুণ্ডু, ডোমজুড়: নিকাশি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য— এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েই ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুরের নির্বাচনি মঞ্চে উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে ডোমজুড়ের নীলাঞ্জনা পার্ক সংলগ্ন মাঠে তাঁর প্রায় ২৭ মিনিটের টানটান বক্তৃতা শুধু উপস্থিত হাজার হাজার মানুষকে উজ্জীবিতই করেনি, বরং গোটা সভা যেন পরিণত হয় একেবারে হাউসফুল শো’তে।

    বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওড়া-আমতা রোড ধরে সভাস্থলের দিকে যাওয়া জনস্রোতই বুঝিয়ে দেয়, তীব্র গরমও অভিষেকের জনপ্রিয়তার কাছে ম্লান। ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর, এই দুই কেন্দ্রের প্রার্থী তাপস মাইতি ও সুবীর চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বালির প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রও। মঞ্চ থেকেই তৃণমূল প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান অভিষেক। ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখানকার বিজেপি প্রার্থী একসময় জগদীশপুরের প্রধান ছিলেন। আমাদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে বহু অভিযোগ আসে। ২০২১ সালে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তৃণমূল তাঁকে জেলে ঢোকাবে, তখন তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। চার বছর আগে একটি মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।’ এরপর জগৎবল্লভপুরের বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করে অভিষেকের মন্তব্য, ‘এখানকার বিজেপি প্রার্থীও তৃণমূলের আবর্জনা। তাঁদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। আমরা যাঁদের নোংরা বালতিতে ফেলছি, মোদি-অমিত শাহরা তাঁদেরই কুড়িয়ে নিয়ে মাথায় বসাচ্ছেন।’ 

    তবে শুধু আক্রমণ নয়, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক। পাশাপাশি ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুরের মানুষের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ডোমজুড়ে নিকাশির সমস্যা রয়েছে। জগৎবল্লভপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র উন্নত করার দাবি দীর্ঘদিনের। আমি দু’টিকেই অগ্রাধিকার দেব। আরও বেশি হাইড্র্যান্ট তৈরি হবে। এখানে হাই রোডের উপর দীর্ঘদিন ধরে একটা বাস টার্মিনাসের আবেদন করা হয়েছে। 

    ‘এক ডাকে অভিষেক’-এ আমি প্রায় ১০০টা ফোন পেয়েছি। এটাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমি তিনটি প্রতিশ্রুতি আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি।’ সমস্যা সমাধানের সময়সীমাও স্পষ্ট করেন অভিষেক। তিনি জানান, ‘৪ মে ফল বেরনোর পর ৩১ মে’র মধ্যে জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রীর নেতৃত্বে ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুরে মিটিং হবে। জুন মাসে পরিবহণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাস টার্মিনাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ সব মিলিয়ে এদিন অভিষেকের ঝাঁঝালো বক্তব্য এবং প্রত্যয়ী প্রতিশ্রুতি দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের সমর্থনকে যেন আরও তীব্রতর করে তুলল।
  • Link to this news (বর্তমান)