হিমাংশু সিংহ: বাংলার মহিলারা কেন ভোট দেবে মনুবাদী বিজেপিকে? বেকার যুবকরা কোন আক্কেলে চাকরির জুমলায় ভুলবে? এই জোড়া প্রশ্নেই দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বেসামাল বিজেপি। ওয়াররুমে বসে অমিত শাহ দেখছেন, প্রতিশ্রুতির গুগলিতে কাজ হচ্ছে না। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে মহিলারা বিপন্ন। বেকারত্ব রেকর্ড গড়েছে। মোদিজি যতই তিন হাজারি ভাতার প্রতিশ্রুতি দিন, স্রেফ মমতাকে টুকে বাংলা জয় দূরঅস্ত! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবারও তৃণমূলের তুরুপের তাস। ভোকাট্টা গেরুয়া ঘুড়ি!
ঘুরে দাঁড়ানোর এই মেজাজটাই মমতার ইউএসপি। একাজে অগ্নিকন্যার মূলধন ভয়ডরহীন লড়াই। নয়ের দশকে যাঁদের নামে বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত, সেই মার্কসবাদীদের দর্প চূর্ণ করা থেকে বিজেপিকে হারানোর হ্যাটট্রিক! তাঁর পাঁচ দশকের কেরিয়ারের ঈর্ষণীয় গ্রাফ নিয়ে একদিন গবেষণা করতে বাধ্য হবে ছাত্ররা। সেই জোরেই আজও বাঙালির আইকন। এবারও রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম, নেতাজি, মাছভাত, হার না মানা সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইয়ে বুক পেতে সামনের সারিতে। দেড় দশক মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরও তাঁর মধ্যে বিরোধী নেত্রীর আগুন আজও জ্বলছে। সময় বদলালেও বয়সটা থমকে একই বিন্দুতে। ছুটছেন কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ। কেন্দ্রের রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন প্রতিরোধ। গেরুয়া সংকীর্তন দলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শতাধিক সভা, রোড-শো, মিছিল বাংলার এক ইঞ্চি জমিও না ছাড়ার জেদ থেকেই।
ব্যতিক্রমী যুদ্ধ চলছে বাংলায়। লক্ষ লক্ষ নাম বাদের কিস্যায় ভয়াবহ আক্রমণ নেমে এসেছে নাগরিকদের উপর। ভোট ঘোষণার আগেই আধাসেনার ভারী বুটের আওয়াজে ভয় সংক্রামিত বাঙালির মজ্জায়। শীর্ষ আমলা, পুলিশ কর্তা থেকে গোটা প্রশাসনটাকেই উপড়ে ফেলা হয়েছে। অর্ধশতাব্দীর জননেত্রীকে চাপে ফেলার কী বিপুল আয়োজন! কিন্তু প্রথম দফার পর হিসাব কি মিলছে অমিত শাহদের? এতকিছু করেও যুদ্ধ জেতা যে অসম্ভব, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে বিজেপি।
উপদ্রুত কাশ্মীরের ৬ গুনেরও বেশি আধাসেনা নেমেছে। তবু লড়াইয়ের ময়দানে লেজেগোবরে মোদিজি। বাংলায় গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নামিয়েও শঙ্কার আঁধারে গেরুয়া শিবির। বিজেপির পরাজয়ের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। আগামী ৪ মে কালীঘাটের হাওয়াইচটির শৌর্য আবার দেখবে বাংলা। দু’চোখে সরষেফুল দেখবেন মোদিজি? তিনি না পারেন বাংলা বলতে, না পারেন সঠিক উচ্চারণে একটা রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি করতে। তবু আগমার্কা বাঙালি সাজার নিদারুণ চেষ্টা। ভয় আর ভরসার এই ছলনা বাঙালি চিনে ফেলেছে। গেরুয়া শক্তির বিরুদ্ধে সজোরে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে ফুঁসছে বঙ্গবাসী। কলকাতায় ভোটে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ৩২০ কোম্পানি পূর্ব মেদিনীপুরে। এর ভিত্তি কী? ২৭ তারিখ প্রচার শেষ হলেই বহিরাগতদের ছুটি, অমিতজিদের দিল্লিমুখী গোল্লাছুট। ৪ মে ফল বেরনোর আগেই ভাগলবা। শুনশান সেই প্রহরে জিতবে বাংলা, জিতবে বাঙালি। জিতবেন বাংলার অগ্নিকন্যা এবং তাঁর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। প্রমাণ হবে এই বঙ্গে বহিরাগতদের স্থান নেই। আবার ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু হবে লোকসভার যুদ্ধে।