আনফিট কর্মীকে ভোটের ডিউটি নয়, স্পষ্ট নির্দেশ লালবাজারের
বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের ডিউটিতে পাঠাতে হবে ১০০ শতাংশ ফিট পুলিশ কর্মীদের। অসুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে যেন এই ডিউটি না দেওয়া হয়। বিভিন্ন ডিভিশনের কাছে এই নির্দেশ গেল লালবাজার থেকে। একইসঙ্গে কোথাও কোনো ধরনের ফোর্সের ঘাটতি মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে তারা। ডিভিশনগুলি পুলিশ কর্মীদের নামের তালিকা পাঠালে সেই অনুযায়ী ভোটের দিনের ডিউটি ঠিক করা হবে। একইসঙ্গে থানাগুলির কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে ভোটের দিন এবং তার পরে অ্যাকশন প্ল্যান কী রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনগুলিও জানাতে বলা হয়েছে, যাতে এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অশান্তি বা গোলমাল না-হয়।
কলকাতায় ভোটগ্রহণ দ্বিতীয় দফায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গোলমাল সামলানোর দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুলিশ। কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর বা কোন এলাকায় ঝামেলার অতীত ইতিহাস রয়েছে তার তালিকা লালবাজারের জানা। তার ভিত্তিতে সেখানে কী ধরনের ফোর্স রাখতে হবে তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা ঘুরে দেখেছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। গোলমাল হলেই পুলিশ যাতে দ্রুত পৌঁছতে পারে, সেই বিষয়টির উপর কর্তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এক্ষেত্রে থানা থেকে বারবার বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ডিভিশনে কত পুলিশ কর্মী রয়েছেন, তার তালিকা শনিবার সকালেই পৌঁছে যাবে লালবাজারের কাছে। কর্তারা চাইছেন অসুস্থ বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তি যেন ভোটের ডিউটি না করেন। কারণ গোলমাল দেখা দিলে তাঁদের তো কাজে লাগানোই যাবে না। উলটে তাঁদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। এই বিষয়টি ডিভিশনগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের নির্দেশ, ভোটের দিন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো জটলা দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে দিতে হবে। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলে বেশি সংখ্যায় বাহিনী নিয়ে যেতে হবে। গোলমাল বা উত্তেজনা হলে কী করা দরকার তাই নিয়ে থানাগুলির মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া পরিকল্পনার সঙ্গে লালবাজারের পরিকল্পনার কোথায় মিল বা অমিল রয়েছে, সেটা বিশ্লেষণ করে দেখতে চান কর্তারা, যাতে প্রস্তুতিতে কোনোরকম ফাঁক না থাকে। পাশাপাশি লালবাজারের তরফে থানাগুলিকে সতর্ক করে বলা হয়েছে প্রচার শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটারদের ভয় দেখানো বা আবাসনে ঢুকে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে ভোটারদের। এমনকি, দোরে দোরে প্রচারের ক্ষেত্রেও ভোটারদের ভয় দেখানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই বিষয়গুলি থানাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে লালবাজার।