• পানিহাটিতে এসেও অভয়াকাণ্ডে সিবিআই তদম্ত নিয়ে নীরব মোদি, সমালোচনার ঝড়
    বর্তমান | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • বিশ্বজিৎ মাইতি, পানিহাটি: বাংলায় ভোট রাজনীতি করতে এসে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে নীরবই রইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! উলটে শুক্রবার পানিহাটির বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অমরাবতী ময়দানের জনসভা মঞ্চ থেকে তাঁর গ্যারান্টি—‘চার মে’র পর সরকার গঠন হলে, মেয়েদের উপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের ফাইল নতুন করে খোলা হবে।’ এনিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলে বলছেন, সিবিআইয়ের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও আপনার দলের প্রার্থী রত্না দেবনাথের আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন। ভোটে দাঁড়ানোর আগে রত্নাদেবী নিজেও সিবিআইয়ের নিষ্ক্রিয়তা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একধাপ এগিয়ে তিনি তৃণমূল-বিজেপি সেটিংয়ের তত্ত্বও আউড়ে ছিলেন। এখন মানুষকে বোকা বানিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পূরণে ভোলবদল করছেন! সিবিআই ব্যর্থ হলে, সেই দায় প্রধানমন্ত্রীর উপরেও বর্তায়! 

    আর জি কর হাসপাতালে খুন হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়ার মা রত্না দেবনাথকে পানিহাটির প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর জি করের ঘটনার পর রত্নাদেবীরা সিবিআই তদন্ত চেয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন। আদালত তা মঞ্জুরও করেছিল। কিন্তু ওই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সঞ্জয় রায়কে মূল অভিযুক্ত বলে মেনে নেয় সিবিআই। শাস্তি হয়েছে সঞ্জয়ের। দেড় বছরের বেশি তদন্ত করে নতুন কাউকে আর গ্রেপ্তার করা যায়নি। এনিয়ে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমে তোপ দেগেছেন রত্নাদেবী ও তাঁর স্বামী। এমনকি, কয়েক মাস আগেও তাঁরা সিবিআইয়ের নিষ্ক্রিয়তার জন্য তৃণমূল-বিজেপি সেটিং নিয়ে সরব হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে না পেরে তাঁদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে আর জি কর কাণ্ডের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। আদালতে রত্নাদেবীও হাজির ছিলেন। আদালতে তাঁদের আইনজীবী সিবিআইয়ের গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। 

    পানিহাটির সভায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনারা দেখুন, যে মা নিজের মেয়েকে ডাক্তার বানালেন, আর যাঁর মেয়েকে তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ কেড়ে নিল, বিজেপি সেই মাকে নিজের প্রার্থী করেছে। বিজেপি সন্দেশখালির নির্যাতিতা বোনেদেরও নেতৃত্বের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল এই বোনেদেরই গালি দিতে ব্যস্ত।’ বিজেপির পোস্টার বয় বলেন, ‘জনসভায় আসা এক বোন আমাকে রাখি উপহার দিয়েছেন। বাংলার বোনেদের ভরসা দিচ্ছি,  তাঁদের সুরক্ষা সর্বাগ্রে হবে। চার মে বিজেপি সরকার হওয়ার পর তাঁদের ওপর হওয়া প্রতিটা অন্যায়, প্রতিটা অত্যাচারের ফাইল খোলা হবে। আমি আবার বলছি, ফাইল খোলা হবে। আর এটা মোদির গ্যারান্টি।’ 

    পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত বলেন, আমরা বার বার বলেছি তৃণমূল অভয়ার বিচার দেয়নি। বিজেপিও বিচার দিতে পারবে না। এরা আসলে একই কয়েনের দুই পিঠ। যে সিবিআই দেড় বছরের বেশি সময় তদন্ত করে কিছু করেনি, চার তারিখের পর নতুন করে আর কী হবে! ফাইল খোলার গল্প আসলে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা আসার মতো। হাতরাস, উন্নাও-এর ধর্ষকদের গলায় যারা মালা পরায়, তারা শাস্তি সুনিশ্চিত করতে পারবে না। 

    রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, সিবিআই কলকাতা পুলিশের তদন্তকে সঠিক বলে মেনে আদালতে জানিয়েছে, সঞ্জয় রায় একমাত্র দোষী। নতুন করে ফাইল খোলার গল্প শুনিয়ে মানুষকে বোকা বানানো যাবে না। তার থেকে বরং সিবিআইয়ের ব্যার্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে উনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ুন।  

    অন্যদিকে, ভিন এলাকা থেকে প্রচুর কর্মী এনেও গোশালা মাঠ থেকে অমরাবতী মাঠ পর্যন্ত রাস্তার দু’'দিকে ভিড় জমাতে পারেনি গেরুয়া শিবির।  সভাতেও ছিল না সেই চেনা ভিড়। 
  • Link to this news (বর্তমান)