এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারেনি চিন! ‘আত্মজীবনী’ বিতর্কের মধ্যেই রাহুলের দাবি ওড়ালেন নারাভানে
প্রতিদিন | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
তাঁর তথাকথিত ‘আত্মজীবনী’ এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের ছাড়পত্র পায়নি। অথচ সেই বই নিয়ে উত্তাল হয়েছে জাতীয় রাজনীতি। সংসদে হট্টগোল হয়েছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ উঠেছে। সরকারকে কিছুটা ব্যাকফুটে পড়তে হয়েছে। বইটিকে হাতিয়ার করে লাগাতার কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই বই নিয়ে অবশেষে নিজেই নীরবতা ভাঙলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। শুধু নীরবতা ভাঙলেন না, একই সঙ্গে ভেঙে দিলেন একাধিক ‘ভ্রান্ত’ অভিযোগের বুদবুদ।
নারাভানে সাফ জানিয়ে দিলেন, ২০২০ সালের সেই রাতে ভারতীয় ভুখণ্ডের এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারেনি চিন। এক সাক্ষাৎকারে নারাভানে বলেছেন, “দেখুন সেই ২০২০ সালেই আমি বলেছিলাম চিন ভারতের এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারেনি। আমি এখনও সেই একই কথা বলছি। এক ইঞ্চি জমিও খোয়াইনি আমরা। এখন সেটা যদি কেউ বিশ্বাস করতে না চায়, তাহলে হাজার বার বললেও সে বিশ্বাস করবে না। আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করেছি সত্যিটা তুলে ধরার, কেউ বিশ্বাস না করলে সেটা তাঁর ব্যাপার।”
উল্লেখ্য, নারাভানের উল্লেখ্য, স্মৃতিকথায় গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ এবং অগ্নিপথ পরিকল্পনা-সহ ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের বিশদ বিবরণ রয়েছে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে আগ্রাসন চালাচ্ছিল চিনের সেনা। কৈলাস রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতীয় পজিশন থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে চলে এসেছিল। সেসময় ঠিক কী করণীয়, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা দেয়নি সরকার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁকে বলে দেন, যা ঠিক মনে হয় তাই করুন। বস্তুত নারাভানে ইঙ্গিত করেছেন, তাঁকে কঠিন দোটানায় ফেলে দিয়েছিল সরকার। প্রশাসনিক স্তরে যে সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে নেওয়া উচিত ছিল, সেটা সরাকার নিতে না পারাই সেনাপ্রধানের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এসবের পরও ভারতকে পিছু হটতে হয়নি বলেই দাবি প্রাক্তন সেনাপ্রধানের।
নারাভানে বলছেন, “ভারতের সেনা কী করবে, সেটা কোনওভাবেই রাজনীতি প্রভাবিত নয়। সেনার পদক্ষেপ ঠিক করে প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি। সব সিদ্ধান্ত অবশ্যই সেনাপ্রধানের সম্মতিতে নেওয়া হয়।” তাঁর সাফ কথা, “সেনাকে যতটা সম্ভব রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত। ভারতীয় সেনার গর্বের জায়গা, আমরা অরাজনৈতিক। হ্যাঁ, আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান থাকতেই পারে। কিন্তু সংস্থা হিসাবে আমরা অরাজনৈতিক।”