“মা, মা… একটু হরলিক্স দাও না মা, চেটে চেটে খাব”- কয়েক দশক আগে পর্দার মা সন্ধ্যা রায়ের কাছে আবদার করেছিল মাস্টার বিট্টু। সেই শিশুশিল্পী এখন নেতা-অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। চণ্ডীপুরের বিদায়ী বিধায়ক ছাব্বিশের নির্বাচনে করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের ‘তুরুপের তাস’। শেষ দফা ভোটের প্রাক্কালে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন তারকা প্রার্থী। তবে হরলিক্স ও সোহমের ‘কানেকশন’ যে আজীবনের, তারই হাতেগরম প্রমাণ মিলল নির্বাচনী প্রচারে।
প্রথম দফার পর এবার ‘পাখির চোখ’ রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিকে। হাতে আর মাত্র দিন চারেক। ব্যালটে ভাগ্য নির্ধারণের প্রাক্কালে শেষবেলার প্রচারে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন প্রার্থীরা। খাওয়া-নাওয়া ভুলে আমজনতার দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে জনসংযোগ সারছেন। সোহম চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। কাঠফাটা গরম উপেক্ষা করেই নদিয়ার করিমপুরের পিচে প্রচারে চালাচ্ছেন সোহম। তারকা প্রার্থীকে দেখতে অলিতে গলিতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রাও। তবে দুয়ারে দুয়ারে প্রচারের মাঝেই এক মহিলা অনুরাগী যা করলেন, সেই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত আপাতত নেটভুবনে চর্চার শিরোনামে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে থালা-বাটি নিয়ে এগিয়ে আসছেন এক মহিলা অনুরাগী। সেই থালায় এনার্জি ড্রিঙ্ক হরলিক্সের দুটো পাউচ রাখা। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়ানো জনতাকে চমকে দিয়ে ওই মহিলা আচমকাই কাঁচি দিয়ে হরলিক্সের পাউচ কেটে ফেললেন। সামনেই দাঁড়়ানো তারকা প্রার্থী সোহম। তারপর?
সোহম চক্রবর্তীর কাছে ওই মহিলার আবদার, “আমি ছোটবেলা থেকে আপনার ছবি দেখেছি। আমার এই অনুরোধ আপনাকে রাখতেই হবে।” ভোটপ্রচারে বেরিয়ে হরলিক্স খেতে হবে! এমন আজব অনুরোধ এযাবৎকাল কেউ পাননি সম্ভবত। প্রচারের মাঝে এহেন কাণ্ড ঘটায় খানিকটা বিব্রত বোধ করেন সোহম নিজেও! তবে বিরক্তির লেশমাত্র নেই তাঁর মধ্যে। বরং হেসেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্য করে চটজলদি উত্তর দেন, “ছোট বাচ্চাগুলো আছে, ওদের দিন।” তারকা প্রার্থীর উত্তরে মুহূর্তে হাততালির ঝড়। ‘ছোটবউ’ সিনেমা যখন মুক্তি পায়, সোহম তখন বছর চারেকের শিশুশিল্পী। গুণগ্রাহীরা বলছেন, সিনেমায় হরলিক্স খাওয়ার সেই সংলাপ এখনও ফেরে মুখে মুখে। তবে কাঠফাটা বৈশাখে ভোটপ্রচারে যে হরলিক্স খাওয়ার অনুরোধ আসবে তা বোধহয় নিজেও ভাবতে পারেননি নেতা-অভিনেতা।