• ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত, কালনায় ভোটের লড়াইয়ে ব্রিজ নিয়ে জোর টক্কর
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, কালনা: ঘরের ছেলে, ঘরের মেয়ে বনাম বহিরাগত! উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ! চর্তুমুখী লড়াই! ‘সার’ প্রক্রিয়ায় বিশাল সংখ্যক নাম বাদ! পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনে ভরা কালনা বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াই এ বার আক্ষরিক অর্থেই বর্ণময়।

    এক সময়ের ‘বাম দুর্গ’ বলে পরিচিত কালনায় প্রথম বদল ২০১১–র বিধানসভা নির্বাচনে। জিতেছিলেন তৃণমূলের বিশ্বজিৎ কুণ্ডু। ২০১৬–তেও ফের জয়ী তিনি। ২০২১–এর নির্বাচনের আগে বিশ্বজিৎ দল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। তৃণমূল বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় বিশ্বজিৎ–বিরোধী বলে পরিচিত দেবপ্রসাদ বাগকে। এ বারও তিনিই জোড়াফুলের মুখ।

    পাল্টেছে বিজেপির মুখও। এ বার প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার। সিপিএম প্রার্থী করেছে কালনা পুরসভার কাউন্সিলার শর্মিষ্ঠা নাগ সাহাকে। কংগ্রেসের প্রার্থী অমল সাহা। চার দলের বাকি তিন জন ভূমিপুত্র হলেও বিজেপির সিদ্ধার্থ কলকাতার বরাহনগরের বাসিন্দা। ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রে সিদ্ধার্থ ছিলেন কংগ্রেসের প্রার্থী। এ হেন প্রার্থীকে ‘দলবদলু’ ও ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে প্রচারে সরব তৃণমূল। তবে শুধু বিরোধী শিবির নয়, সিদ্ধার্থকে দলেরই একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।

    কালনা বিধানসভার মধ্যে রয়েছে কালনা পুর এলাকা। ২০২১–এর বিধানসভা ও ২০২৪–এর লোকসভা— দুই নির্বাচনের নিরিখে কালনা পুর এলাকায় পিছিয়ে তৃণমূল। কালনা পুরসভায় শাসকদলের দ্বন্দ্ব বেশ কয়েক বার প্রকাশ্যে এসেছে। এ ছাড়াও এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে কালনা শহর লাগোয়া কালনা–১ ব্লকের তিনটি পঞ্চায়েত ও কালনা–২ ব্লকের আটটি পঞ্চায়েত। উন্নয়ন ও পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। আইনজীবী পার্থসারথী কর বলছেন, ‘কালনা ও শান্তিপুরের মধ্যে ব্রিজ হওয়া প্রয়োজনীয়। ব্রিজ হলে এলাকার আর্থ–সামাজিক অবস্থা বদলে যাবে। কিন্তু তা তৈরির কাজও শুরু হয়নি।’

    শহরে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হওয়ার পরে কয়েক বছর কেটে গেলেও হার্ট বা নিউরো বিশেষজ্ঞ নেই। এখানকার বাসিন্দা রুমকি দেবনাথ যেমন বলছেন, ‘গঙ্গায় স্নান করতে যেতে হয়। কিন্তু মহিষমর্দিনীতলার ঘাটের বেহাল দশা। বহুদিন ধরে শুনছি সংস্কার হবে।’ একই বক্তব্য তনুশ্রী দাসের। বলেন, ‘বর্ষায় কালনা শহরে জল জমে। জল সরতে দু’তিন দিন লেগে যায়। শহরের বেশিরভাগ পুকুর পানায় ভরা।’

    ভাগীরথীর তীর বরাবর রাস্তা নির্মাণ–সহ একাধিক বিষয়ে অঙ্গীকারপত্র প্রকাশ করেছে তৃণমূল। বাসিন্দাদের বক্তব্য, কোনওটিই বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও দেবপ্রসাদের দাবি, ‘ব্রিজের জন্য রাজ্য সরকার টাকা বরাদ্দ করেছে। ব্রিজ হবে। প্রায় ৯৮ শতাংশ জমি কেনা হয়ে গিয়েছে এ পারে। ’ যা নিয়ে পাল্টা সিদ্ধার্থর প্রশ্ন, ‘২০২১–এ উনি বলেছিলেন ব্রিজ হয়ে যাবে। হয়নি কেন? আমি বিধায়ক হলে এক বছরের মধ্যে ব্রিজের কাজ শুরু হবে। কালনাকে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    সিপিএম প্রার্থী শর্মিষ্ঠার বক্তব্য, ‘জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। গ্রামীণ এলাকায় ভাল সাড়া পাচ্ছি। কাউন্সিলার হিসেবে দিনরাত আমার থেকে মানুষ পরিষেবা পান। ব্রিজের পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমরাই। সরকার গড়লে আমরাই ব্রিজ তৈরি করব।’ কংগ্রেস প্রার্থী অমল সাহা বলছেন, ‘২০ বছর বাদে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এই কেন্দ্রে। এলআইসি এজেন্ট হিসেবে বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের ক্ষোভের কথা জানি।’

  • Link to this news (এই সময়)